দিল্লির পর এবার আশা রাজকোট–রাজত্বের

0
187
দিল্লি ছেড়ে কাল রাজকোটে গেছে বাংলাদেশ দল। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি আগামী পরশু সেখানেই। দিল্লির হোটেল ছেড়ে বাসে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে প্রথম ম্যাচে জয়ের নায়ক মুশফিক (ডানে) ও সৌম্য সরকার (মধ্যে)। ছবি: বিসিবি

দিল্লির বাতাস কাল অনেকটাই পরিষ্কার। ঘন ধোঁয়া সরে গেছে। আকাশে দেখা মিলেছে সূর্যের। দিল্লির পরিবেশ নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা অবশ্য বাংলাদেশ দলেরও ফুরিয়েছে। কাল সকালেই দিল্লি থেকে মাহমুদউল্লাহ–মুশফিকরা চলে গেছেন দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টির ভেন্যু রাজকোটে।

আগের দিন ম্যাচ শেষে দিল্লির টিম হোটেল এমটিসি মৌর্যে ফিরতে ফিরতে বেজে গেছে রাত প্রায় সাড়ে ১২টা। কাল সকালে আবার ফ্লাইট ধরার তাড়া। ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারানোর আনন্দ কতটা, কালকের স্নিগ্ধ সকালে সেটি দূর থেকে ক্রিকেটারদের ঘুমকাতুরে চেহারাগুলো দেখা বোঝা কঠিন ছিল। তবে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দল পরশু রাতে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে যে দুর্দান্ত জয় উপহার দিয়েছে, শুধু দিল্লিবাসীই নয়, চমকে গেছে পুরো ভারত!

সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশার ধারাভাষ্য দিতে এই মুহূর্তে আছেন মুম্বাইয়ে। পরশু বাংলাদেশ জেতার পর তিনি স্টুডিওতে খুঁজেছেন বীরেন্দর শেবাগকে। এই সিরিজের প্রচারণা হিসেবে স্টার স্পোর্টস ভারতের সাবেক এ ওপেনারকে দিয়ে একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছে। সেখানে শেবাগ বলছেন, ‘এখানেই এত উড়ছে, যদি প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে জিতে যায়, তবে কী করবে কে জানে।’ হাবিবুল দেখতে চেয়েছেন এখন ‘বিরু’র অভিব্যক্তিটা কী! শেবাগের সঙ্গে দেখা তাঁর হয়নি। দেখা হয়েছে ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে। ভারতীয় এ কিংবদন্তি হাসিমুখেই অভিনন্দন জানিয়েছেন হাবিবুলকে।

বাংলাদেশ অভিনন্দন পাচ্ছে সবার কাছ থেকেই। বড় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণত ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন। পরশু সেটি হয়নি। সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টি দেখতে দিল্লিতে আসা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ক্রিকেটারদের। বড় জয়ে বিসিবি প্রধানের কোটি টাকার বোনাস ঘোষণার যে ‘রীতি’, সেটিও দেখা যায়নি। এটা নাকি তুলে রাখা হয়েছে সিরিজ জয়ের আশায়।

ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ জয়ে খেলোয়াড়দের অবশ্যই আনন্দ আছে, তবে বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। হাবিবুলের চোখে বাংলাদেশের কাছে এই জয়ের তাৎপর্যটা একেবারেই অন্য রকম, ‘গত কিছু দিনের কঠিন পরিস্থিতি, দলের মূল দুজন (সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল) খেলোয়াড়কে ছাড়া খেলা, ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানো—এর আগে আমরা পূর্ণ শক্তির দল নিয়েও ওদের সঙ্গে পারিনি। বরং একেবারে নতুন একটা দল এবার খেলতে এসেছে। কয়েকজন ক্রিকেটার তাদের প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা পঞ্চম ম্যাচ খেলতে নেমেছে। এমন দল নিয়ে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া জয়টার মূল্য অবশ্যই অনেক।’

হাবিবুল যে কঠিন পরিস্থিতির কথা বলছেন, সেটিই কি অলক্ষ্যে জয়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে? বাংলাদেশ ক্রিকেট এক টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল গত কয়েক দিন। ক্রিকেটারদের ধর্মঘট, সাকিব আল হাসানের নিষিদ্ধ হওয়া—গুমোট এক হাওয়া ঘিরে ধরেছিল বাংলাদেশকে। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উতরে যাওয়ার উপায় হিসেবে একটা জয় পেতে উন্মুখ ছিলেন খেলোয়াড়েরা? এ প্রশ্নে পরশু রাতে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিম এক রসাল উত্তরই দিলেন, ‘তাহলে প্রত্যেক সপ্তাহে এমন করব নাকি!’ ভালো খেলার অনুপ্রেরণা খুঁজতে কেউই আসলে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না। চান না মুশফিকও, ‘এমন পরিস্থিতি কেউ চাই না। শুধু ক্রিকেটে না, কোথাও এমনটা কেউ চায় না। এখান থেকে দৃষ্টি ফেরানোর একটাই উপায় ছিল, ভালো একটা জয়, ভালো একটা ম্যাচ বা ভালো লড়াই করা। ১৭–১৮ কোটি মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চটা দেওয়ার। সামনেও যেন নিজেদের সেরাটা দিতে পারি।’

সেই সেরাটা যদি রাজকোটেও দেওয়া যায়, তখন হবে আরেক ইতিহাস—ভারতের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়! দলের তরুণ লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম আশা দিচ্ছেন, রাজকোটে ইতিহাস হতেও পারে, ‘আমাদের লক্ষ্য ম্যাচ ধরে ধরে এগোনো। পরের ম্যাচটা ভালো খেলতে পারলে আশা করি সিরিজ জিতব।’

দিল্লিতে পৌঁছেই বাংলাদেশকে ভাবতে হয়েছিল বায়ুদূষণ নিয়ে। এই বাধাটাও জয় করেছেন মুশফিকরা। তবে রাজকোটে থাকছে আরেক চিন্তা। পূর্ভাবাস বলছে, পরশুর আবহাওয়াটা ঠিক ক্রিকেট উপযোগী না–ও থাকতে পারে। ধারাভাষ্যকার হার্ষা ভোগলে টুইট করেছেন, ‘রাজকোটে ম্যাচের আগে ৬–৭ নভেম্বরে পশ্চিম উপকূলে ধেয়ে আসা সাইক্লোনের সম্ভাবনা আছে। সৌরাষ্ট্রের উপকূলীয় জেলেদের ভয়ংকর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আশা করি মানুষজনের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে না। এ বছরের আবহাওয়াটা বেশিই অননুমীয়।’

সতর্কবার্তা একটা আছে ভারতীয় দলের জন্যও। মুশফিকরা যদি রাজকোটেও রাজত্ব করতে পারেন, নিশ্চিত ফিরে আসবে ২০১৫ সালের জুনে মিরপুরের স্মৃতি! নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজটা নিষ্পত্তি করেছিল এক ম্যাচ বাকি থাকতেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে