দিবাযত্ন কেন্দ্র থেকে শিশু হারালে ১০ বছর কারাদণ্ড :মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন

0
264

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। এই আইন পাস হলে দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করতে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন ও সনদ নিতে হবে। কোনো অব্যবস্থাপনা হলে বা শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে বলেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন গত আড়াই বছর ধরে ঘোরাঘুরি করছিল। গত তিন-চার মাসে যত্ন নিয়ে এটা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ আইন প্রবর্তন হলে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শ্রেণির কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার পাশাপাশি আইনের অধীন নিবন্ধন সনদ নিয়ে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে। অনুমোদন ছাড়া কেউ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করলে অপরাধ হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র খুলতে চাইলে কীভাবে তা করতে হবে খসড়ায় বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নির্ধারিত শিশু বা ক্ষেত্রমতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিনোদন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও শিশুর জন্য অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি তিন মাসে একবার করে শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। শিশুর জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন, কর্তব্যে অবহেলা, শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করলে দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। নতুন আইন পাস হওয়ার পর শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা করবে, সেখানে সব বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এখন পরিচালিত হচ্ছে, নতুন আইন পাস হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সেগুলোকে নিবন্ধন নিতে হবে। তখন সবগুলো শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে আসবে।

জুনের মধ্যে আইনে পরিণত হচ্ছে সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশ: সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো আগামী জুনের মধ্যে আইনে পরিণত করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৩ সালে হাইকোর্ট রুলিং দিয়েছেন- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে অর্ডিন্যান্সগুলো (অধ্যাদেশ) করা হয়েছিল, সেগুলো বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে। যেগুলোর প্রয়োজন নেই সেগুলো বাদ দিতে হবে।

তিনি বলেন, সামরিক শাসনামলের কয়েকশ অধ্যাদেশের মধ্যে ৫৯টি বাদে বাকিগুলো আইন হয়ে গেছে। এগুলোকে আইনে পরিণত করতে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে এগুলো আইনে পরিণত করতে মন্ত্রিপরিষদ থেকে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেক নতুন সচিব আসছেন; তারা হয়তো জানেন না। তাই নতুন সচিবদের নিয়ে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বসে এ বিষয়ে গাইডলাইন দেওয়া হবে।

মরক্কোর সঙ্গে দ্বৈতকর পরিহার চুক্তিতে অনুসমর্থন : বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বৈত করারোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দুই জায়গায় ট্যাক্স দিতে হতো বলে দ্বৈত করারোপ পরিহারের বিষয়টি নিয়ে আসা হয়েছে। চুক্তির ফলে দুই জায়গায় বা দুই দেশে ট্যাক্স দিতে হবে না।

ব্যাংকার বহি সাক্ষ্য আইন অনুমোদন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় ব্যাংকার বহি সাক্ষ্য আইন-২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১৯৯১ সালের একটি আইন ছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন করে আইন করতে খসড়া নিয়ে আসা হয়। ব্যাংকের যেসব বই যেমন- লেজার বুক, ক্যাশ বুক; এগুলোকে সাক্ষ্য বই বলা হয়। তিনি বলেন, নতুন আইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যেসব রেকর্ড হবে সেগুলোও সাক্ষ্য বহি আইন বলে বিবেচিত হবে।

শকুন রক্ষায় বন্ধ হচ্ছে কিটোপ্রোফেন: বাংলাদেশে মহাবিপন্ন শকুন রক্ষায় গবাদিপশুর ব্যথানাশক কিটোপ্রোফেন জাতীয় ওষুধের উৎপাদন বন্ধে সায় দিয়েছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে