দারিয়া হত্যার প্রধান সন্দেহভাজনের নাম-ছবি প্রকাশ রাশিয়ার

0
39
গত শনিবার মস্কোর কাছে সন্দেহজনক গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন দারিয়া দাগিনা, ছবি: এএফপি

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এফএসবি বলছে, নাটালিয়া ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ইউক্রেন সেনাবাহিনীর আজভ ব্যাটালিয়নের সদস্য।

ইউক্রেন সেনাবাহিনীর এই ইউনিটকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আগেই চিহ্নিত করেছে রাশিয়া।

এফএসবির অভিযোগের জবাবে আজভ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কথিত নারী (নাটালিয়া) কখনোই এই ইউনিটের সদস্য ছিলেন না। তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা কাহিনি সাজানোর অভিযোগ করেছে।

রাশিয়ার অভিযোগকে ‘প্রপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোডোলিয়াক।

এফএসবির ভাষ্যমতে, সন্দেহভাজন নারী ও তাঁর কিশোরী কন্যা গত ২৩ জুলাই রাশিয়ায় আসেন। হামলার জন্য এই নারী এক মাস ধরে প্রস্তুতি নেন। দারিয়া যে হাউজিং ব্লকে থাকতেন, সেখানে এই নারী একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেন। তিনি দারিয়ার চলাফেরাসহ জীবনধারার ওপর নজরদারি করেন।

গত শনিবার সন্ধ্যায় আলেকসান্দর ও তাঁর মেয়ে দারিয়া মস্কোর কাছের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দারিয়া তাঁর বাবার গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে সন্দেহজনক গাড়িবোমা বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন।

রাশিয়ার তদন্তকারীরা বলছেন, চালকের দিকে গাড়িটির নিচে বিস্ফোরক ‘ডিভাইস’ লাগানো ছিল। দূরনিয়ন্ত্রণে ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এফএসবি বলছে, শনিবার সন্ধ্যায় আলেকসান্দর ও দারিয়া মস্কোর কাছের যে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন, সেখানে সন্দেহভাজন ওই নারীও গিয়েছিলেন। দারিয়ার ওপর হামলার ঘটনার পরপর তিনি রাশিয়া থেকে পালিয়ে এস্তোনিয়ায় গেছেন।

গতকাল সোমবার এফএসবির প্রকাশ করা ভিডিওতে কথিত নারী ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে রাশিয়ায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। আবার হামলার ঘটনার পর তাড়াহুড়া করে তাঁদের রাশিয়া ছাড়তেও দেখা গেছে।

দারিয়ার বাবা আলেকসান্দর দাগিন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে পরিচিত

দারিয়ার বাবা আলেকসান্দর দাগিন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে পরিচিত
ছবি: এএফপি

রাশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দেশটির ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় সন্দেহভাজন ওই নারীকে রেখেছে। তাস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন নারীর প্রত্যর্পণ চেয়েছে মস্কো।

এস্তোনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড সার্ভিস পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, কেবল আইনগতভাবে নির্ধারিত ক্ষেত্রেই তারা সে দেশে আসা-যাওয়া করা ব্যক্তিদের তথ্য অন্য কাউকে দেয়। কিন্তু এফএসবির দাবি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.