দশম সংসদ নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন উদ্দেশ্যমূলক: তথ্যমন্ত্রী

0
222
জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তৃণমূল বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: পিআইডি

দশম জাতীয় সংসদের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ একে একপেশে ও অসৎ উদ্দেশ্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনটিতে টিআইবি অসংখ্য ভুল তথ্য ও উপাত্ত দিয়েছে। তারা এর আগে পদ্মা সেতুর ওপরও এমন উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন দিয়েছিল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে তথ্যমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার এক আলোচনায় এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তৃণমূল বিএনপি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

হাছান মাহমুদ বলেন, টিআইবি এর আগে অনেক ভুল তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছে। এর আগে টিআইবি ২০১০ সালে সুন্দরবনের সঙ্গে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কেলেঙ্কারির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। প্রতিবেদন তৈরিতে তারা ২০০৭ ও ২০০৮ সালের উপাত্ত ব্যবহার করেছিল, যখন কিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। তিনি বলেন, কিন্তু তারা সময়টি উল্লেখ করেনি, সুতরাং দেখে মনে হয়েছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি করছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদন জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য সহায়ক হবে না। এ জন্য টিআইবির জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু তারা তা করছে না। এ সময় তিনি জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন না করার জন্য টিআইবির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা গঠনমূলক সমালোচনা চাই, যা একটি গণতান্ত্রিক দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলক ও অন্ধ সমালোচনা জনগণকে বিভ্রান্ত করে।’ রোহিঙ্গা বিষয়ে বিএনপির এক সভা সম্পর্কে হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের উদ্দেশ্য পানি ঘোলা করা। তিনি এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এ ধরনের অপরাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকার রোহিঙ্গা বিষয়ে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। সরকার এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে জড়িত। প্রত্যাবাসনের তারিখও ঠিক করা ছিল। কিন্তু কিছু এনজিও আর রাজনৈতিক দল এটি নিয়ে খেলায় তা হতে পারেনি। আমি আশা করি প্রত্যাবাসন শিগগিরই শুরু হবে।’

অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড একটি নারকীয় ঘটনা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যাঁরা কলকাঠি নেড়েছেন তাঁদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভয়াবহ ওই ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াসহ সব মাস্টারমাইন্ডকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’

আওয়ামী লীগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কখনো রাজনীতি করেনি, উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অন্যান্য দিবস পালন করতে পারেন। যদি কেউ সহযোগিতা চায়, আওয়ামী লীগ তাদের সহযোগিতা করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান নিয়েও কখনো রাজনীতি করেনি।’

নাজমুল হুদা সব রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী পালনের আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তৃণমূল বিএনপির কো-চেয়ারম্যান কে এ জাহাঙ্গীর মজুমদার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) মহাসচিব শেখ হাবিবুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব আকবর করিম প্রমুখ। পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে