দশম সংসদে ৭১ শতাংশ বিল পাস ১ থেকে ৩০ মিনিটে

0
248

দশম জাতীয় সংসদে ৭১ শতাংশ বিল পাস হয়েছে ১ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে। ৬০ মিনিটের বেশি সময় নিয়ে পাস হয়েছে মাত্র একটি বিল। দশম জাতীয় সংসদ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন পার্লামেন্ট ওয়াচে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বুধবার টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। দশম জাতীয় সংসদের কার্যকাল ছিল ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রতিবেদনে সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যাবলি সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, ২১ থেকে ৪০ মিনিট সময়ের মধ্যে পাস হয়েছে ৪৫ শতাংশ বিল। ৮ শতাংশ বিল পাস হতে সময় লেগেছে ৪০ থেকে ৬০ মিনিট। ৪৬ শতাংশ বিল পাস হতে সময় লেগেছে ১ থেকে ২০ মিনিট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদের মোট ব্যয়িত সময়ের মধ্যে ১২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে আইন প্রণয়নের কাজে। তবে এই সময়ের মধ্যে বাজেট বিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে আইন প্রণয়নে ব্যয় হয় ৪৮ শতাংশ সময়। ভারতের লোকসভায় এই হার ৩২ শতাংশ।

দশম সংসদে সব মিলিয়ে ১৯৩টি বিল পাস হয়েছে। টিআইবির গবেষণা বলছে, প্রতিটি বিল পাস হতে গড়ে সময় লেগেছে ৩১ মিনিট করে। অন্যদিকে, ভারতের লোকসভায় প্রতিটি বিল পাস হতে গড়ে ১৪১ মিনিট সময় লাগে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন প্রণয়ন কাজে মোট ব্যয়িত সময়ের মধ্যে ১১ শতাংশ সময় সরকারি দলের সদস্য, ৬৭ শতাংশ সময় প্রধান বিরোধী দল ও ২২ শতাংশ সময় অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা ব্যয় করেছেন। এসব বিলের ওপর সংশোধনী ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবে বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সক্রিয় ছিল। আগের বিভিন্ন সংসদের মতোই বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে গেছে। কয়েকটি আলোচিত বিলে অংশীজনের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন বিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, সড়ক পরিবহন বিল, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল।

গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন নিহার রঞ্জন রায় ও মোরশেদা আক্তার। এ দুজনই আজ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল ও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে