দলবদলের পর : কেমন হলো ম্যানচেস্টার সিটি?

0
690
টানা তিন লিগ শিরোপার লক্ষ্যে লিগ শুরু করতে যাচ্ছে সিটি। ছবি : এএফপি
গত রাতে শেষ হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর দলবদল। নিজেদের শক্তিমত্তা বিবেচনা করে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় এনেছে, অপ্রয়োজনীয় খেলোয়াড় ছেড়ে দিয়েছে। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো আর নিজের দলে খেলোয়াড় আনতে পারবে না। দলবদল শেষে দলগুলোর অবস্থা কেমন হলো? এ পর্বে আমরা দেখে নেব ম্যানচেস্টার সিটি সম্পর্কে।

গত দুই মৌসুম ধরে যে ক্লাবটা লিগে মোট ১৯৮ পয়েন্ট পেয়েছে, সে ক্লাবের উন্নতির জায়গা সামান্যই। তা–ও নিজের দলের উন্নতি দেখে চুপচাপ বসে থাকবেন, শক্তিবৃদ্ধি করবেন না, তাহলে তিনি পেপ গার্দিওলা কেন? ম্যানচেস্টার সিটির এই কোচ যথারীতি এই দলবদলের বাজারেও ক্লাবের শক্তি বৃদ্ধি করেছেন।

সিটির অসাধারণ স্কোয়াডে যদি কোনো খুঁত থেকে থাকে, সেটা দুই জায়গায়।

প্রথমত, একজন তরুণ সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের বড় দরকার ছিল তাদের। ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনহোর বয়স হয়ে যাচ্ছিল, ৩৪ বছর বয়স হয়েছে তাঁর। বয়স হলেও গার্দিওলার পরিকল্পনার একটা বড় অংশজুড়ে থাকেন তিনি। এর কারণও আছে। মূল একাদশে থেকে ফার্নান্দিনহো যে কাজ করেন, তা অন্য কাউকে দিয়ে গার্দিওলা করাতে পারেননি। ফার্নান্দিনহোর কাজ অনেকটা ‘ছদ্ম’ সেন্টারব্যাকের মতো।

যে কিনা দুই মূল সেন্টারব্যাকের মাঝে থেকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করতে পারবে এবং বল কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজে থেকেই দলের আক্রমণ শুরু করতে পারবে। অর্থাৎ বল কেড়ে নেওয়ার কারণে যে ফার্নান্দিনহোকে একজন ‘ছদ্ম-সেন্টারব্যাকের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে, মিডফিল্ডার হওয়ার কারণে সেই একই ফার্নান্দিনহোর পা থেকেই সিটির অধিকাংশ আক্রমণের সূচনা হচ্ছে। গার্দিওলার দলে মিডফিল্ড থেকে আক্রমণে ক্রমাগত বল জোগান দেওয়ার জন্যও ফার্নান্দিনহোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টর যেমন ঠিকঠাক নিশ্চিত করেন অর্কেস্ট্রা ঠিকঠাকমতো হচ্ছে কি না, সিটির মিডফিল্ডে ফার্নান্দিনহোও ঠিক তেমন কন্ডাক্টর, যিনি নিশ্চিত করেন বল নিজেদের দখলে আছে কি না, ঠিকঠাকমতো আক্রমণ রচনা করা হচ্ছে কি না। এ ভূমিকায় সিটির অন্যান্য মিডফিল্ডার—যেমন ইলকায় গুন্দোগান, ফিল ফোডেনকে খেলানো হলেও প্রত্যাশিত ফল পাননি তিনি। এমনকি বল পায়ে মিডফিল্ডারদের মতো পাস দিতে পারেন দেখে এ জায়গায় বেশ কিছু সময়ে সেন্টারব্যাক জন স্টোনসকেও খেলিয়েছেন গার্দিওলা। ফলে ফার্নান্দিনহো চোটে পড়লে বেশ ঝামেলায় পড়ত সিটি।

কিন্তু ফার্নান্দিনহোরও তো বয়স হয়ে যাচ্ছে। সারা জীবন তো আর তিনি এভাবে খেলতে পারবেন না। তাহলে কি হবে?

অ্যাটলেটিকো থেকে সিটিতে এসেছেন রদ্রি। ছবি : এএফপি

 

এ সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন স্প্যানিশ কোচ। দলে নিয়ে এসেছেন অ্যাটলেটিকোর স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি কে। ফার্নান্দিনহো সিটিতে যে কাজ করেন, সে কাজ অ্যাটলেটিকোতে গত বছর করেছিলেন রদ্রি, যথেষ্ট সুনামও কুড়িয়েছেন। ফার্নান্দিনহোর যোগ্য বিকল্প খুঁজতে গার্দিওলাকে তাই বেশি খাটতে হয়নি। ৭০ মিলিয়ন ইউরোর সম্পূর্ণ রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে তবেই রদ্রিকে নিয়ে এসেছে তাঁরা।

দ্বিতীয়ত, কাইল ওয়াকারের একজন বিকল্প রাইটব্যাক খুঁজছিল সিটি। দলে বিকল্প রাইটব্যাক হিসেবে ব্রাজিলের দানিলো থাকলেও, যখনই ওয়াকারের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন, গার্দিওলার প্রত্যাশামাফিক খেলতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আসা এই তারকা। ফলে হাত বাড়িয়েছে জুভেন্টাসের দিকে। ইতালির চ্যাম্পিয়ন এই দল থেকে পর্তুগিজ রাইটব্যাক হোয়াও ক্যানসেলোকে নিয়ে এসেছে তারা। বিনিময়ে দানিলোর সঙ্গে আরও ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড গছিয়ে দিয়েছে জুভেন্টাসকে।

আপাতদৃষ্টিতে সিটির স্কোয়াডে আর কোনো সমস্যা নেই। তাহলে নতুন মৌসুমে কেমন হলো সিটির একাদশ?

গোলবারের নিচে যথারীতি থাকবেন ব্রাজিল তারকা এডারসন। তাঁর বিকল্প হিসেবে দলে আছেন চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। দুজনের প্রত্যেকে যদি চোটে পড়েন, তা–ও সমস্যা নেই। এক বছরের ধারে সিটিতে এসেছেন অভিজ্ঞ ইংলিশ গোলরক্ষক স্কট কারসন।

একটু আগে যেটা বললাম, রাইটব্যাকে ওয়াকারের সঙ্গে এবার দানিলোর জায়গায় থাকছেন ক্যানসেলো। ক্যানসেলোর আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে চাইলে গার্দিওলা তাঁকে রাইট উইঙ্গার হিসেবেও খেলাতে পারেন। তৃতীয় রাইটব্যাক হিসেবে জিরোনা থেকে এসেছেন স্প্যানিশ তরুণ পেদ্রো পোরো।

সেন্টারব্যাক হিসেবে যথারীতি এবারও গার্দিওলার মূল পছন্দ হবে জন স্টোনস-আয়মেরিক লাপোর্তে জুটি। বিকল্প হিসেবে দলে আছেন আর্জেন্টিনার সেন্টারব্যাক নিকোলাস ওটামেন্ডি।

বেঞ্জামিন মেন্ডির ক্রমাগত চোটের কারণে মাঝেমধ্যেই ভুগতে হয় ম্যানচেস্টার সিটিকে। সে কারণেই কিনা দলে মেন্ডি ছাড়াও আছেন ওলেকসান্দার জিনচেঙ্কো। এমনকি তৃতীয় লেফটব্যাক হিসেবে দলে পিএসভি থেকে আনা হয়েছে স্প্যানিশ তারকা অ্যাঞ্জেলিনোকে। চাইলে হোয়াও ক্যানসেলোকেও লেফটব্যাক হিসেবে খেলাতে পারেন গার্দিওলা, তিনি লেফটব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন!

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে এবার সিটির মূল খেলোয়াড় হবেন রদ্রি, সঙ্গে ফার্নান্দিনহো তো আছেনই। বাকি দুই মিডফিল্ডার হিসেবে মূল একাদশে লড়াই হবে জার্মান মিডফিল্ডার ইলকায় গুন্দোগান, বেলজিয়ান তারকা কেভিন ডি ব্রুইনিয়া, ইংলিশ তরুণ ফিল ফোডেন, সিটির স্প্যানিশ কিংবদন্তি ডেভিড সিলভা ও পর্তুগিজ তারকা বার্নার্ডো সিলভার মধ্যে।

মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দলে আছেন সার্জিও আগুয়েরো। তাঁর বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে রাখা হয়েছে। দুই উইঙ্গার হিসেবে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করবেন ইংল্যান্ডের রহিম স্টার্লিং, জার্মানির লিরয় সানে ও আলজেরিয়ার রিয়াদ মাহরেজ। নতুন মৌসুমে সিটির মূল একাদশ তাই হবে অনেকটা এমন

সিটির দলটা হয়েছে চোখধাঁধানো। ছবি : সংগৃহীত

 

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। টানা তিনবার লিগ শিরোপা জিততে পারবে তো সিটি?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে