এবারও সাহসিকতার সঙ্গে উতরে যাব

সাক্ষাৎকারে সেলিনা হায়াৎ আইভী

0
25
সেলিনা হায়াৎ আইভী
 চাষাঢ়া মোড়ে ‘বিজয় স্তম্ভ’ ও আশপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে

চাষাঢ়া মোড়ে ‘বিজয় স্তম্ভ’ ও আশপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে

গডফাদার নিয়ে ভয়, শঙ্কা, বিতর্ক আপনার নির্বাচনে প্রতিবারই থাকে। তা আপনি সাহসিকতার সঙ্গে উতরেও যান। এবার কী হতে পারে?

আইভী: ইনশা আল্লাহ, এবারও সাহসিকতার সঙ্গে উতরে যাব। আসলে জনশক্তিটা বড় বিষয়। জনগণ পাশে থাকলে কোনো বাধাই বাধা মনে হয় না। ওই বাধাটা উতরানো যায়। এটা কথা তো সত্যি যে অপশক্তি যতই মাথাচাড়া দিক না কেন, সত্যের কাছে পরাজিত হয়ই, তা একটু দেরিতে হলেও।

বলছিলেন শামীম ওসমানের নাম শুনতে শুনতে আপনি হয়রান। আসলে নির্বাচনে তিনি কতটা প্রাসঙ্গিক।

আইভী: অ্যাকচুয়ালি প্রাসঙ্গিক কতটুকু, আমি জানি না। আপনারা মিডিয়াই কিন্তু তাঁকে সামনে নিয়ে এসেছেন। প্রথম দিকে কিন্তু নির্বাচনটা ভালোই জমছিল। পরে প্রতিদিনই দেখেছি, এ বিষয়ে মিডিয়ার আগ্রহ বেশি।

 নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বৃহস্পতিবার সকালে দেওভোগ এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বৃহস্পতিবার সকালে দেওভোগ এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। 

কিন্তু আপনিই তো ওনার নামটা প্রথম সামনে আনলেন, ‘গডফাদার’ বললেন।

আইভী: আমি হয়তো এই শব্দটা (গডফাদার) আনছি, কিন্তু ব্যক্তি এমপি সাহেবকে কিন্তু সারাক্ষণই মিডিয়া, আপনারা নিয়ে আসছিলেন এই নির্বাচনের মধ্যে।

এটা হয়তো এ কারণেই যে আপনার উত্থানটা ওনার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বা সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করতে গিয়েই তো আপনার উত্থান। সে কারণেই হয়তো এসেছে।

আইভী: হতে পারে। কারণ, আমি তো ২০১১-তে প্রচণ্ড প্রতিবাদ করেছি। ওই নির্বাচনটা তো তাঁর সাথে আমার ছিল। হয়তো ওইটাই মিডিয়া আবার কাছে নিয়ে আসতে চাচ্ছে।

তো শামীম ওসমান আপনাকে সমর্থন দেওয়ার পর তাঁর অনুসারীরা কি আপনার পক্ষে কাজ করেছেন?

আইভী: আমি জানি না, কে কাজ করেছে বা করেনি। আমার দেখার অবসরও ছিল না। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছিলেন, তাঁরা দেখেছেন। আমি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছি। সত্যিকার অর্থে যারা শেখ হাসিনার কর্মী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী, তারা যেন আমাকে ভোট দেয়।

আপনি বলছিলেন, প্রচারে অনেক জনসমর্থন পাচ্ছেন। কিন্তু ভোটারদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাচ্ছেন না?

আইভী: ম্যাক্সিমাম জায়গায় কোনো অভিযোগ ছিল না, অনুরোধ ছিল। যাতে আমি পাস করে এটা করে দিই। দু-এক জায়গা থেকে অভিযোগ ছিল পানির ব্যাপারে। ওয়াসা যেহেতু আমি নতুন নিয়েছি। দীর্ঘদিন যাবৎ ওয়াসা একটা প্রবলেম ছিল। তাদের অনুরোধ, আমি যেন পাস করে ওয়াসাটা ঠিক করে দিই। আর নারায়ণগঞ্জে একটু গ্যাসের সমস্যা আছে, যদিও এটা আমার ব্যাপার না।

তৈমুর আলম খন্দকার গৃহকর বৃদ্ধির অভিযোগ করেছেন আপনার বিরুদ্ধে, ভোটারদের মধ্যেও এ অভিযোগ আছে।

আইভী: ব্যাপারটা আমি সে রকম পাইনি। এটা নিয়ে পাবলিকের মাথাব্যথা নেই। দু-এক জায়গা থেকে বলেছে। আমি বলেছি যে ঠিক আছে, আপনি হোল্ডিং ট্যাক্সের কাগজটা নিয়ে আসেন, দেখি কতটা বাড়াইছে। কারণ হলো, আমরা বিগত এক-দেড় বছর তো ট্যাক্সই তুলিনি। করোনার পর থেকে তো আমরা ট্যাক্স তুলতে পারছি না, পাবলিক দিচ্ছেও না। আরেকটা কথা হলো, পানির বিলটা তো যুক্ত হয়েছে সাথে। এটাও অনেকের হয়তো বুঝতে সমস্যা হচ্ছে।

আপনি ১৮ বছর ধরে আছেন। সিটি করপোরেশনে একটা সিন্ডিকেটের কথা প্রায়ই বলা হয়, এই সিন্ডিকেট আসলে কী, কার?

আইভী: কেন এটা বারবার বলে, আমি ঠিক জানি না। ২০১১ সাল থেকেই অভিযোগটি পর্যায়ক্রমে আমার বিরুদ্ধে দিয়ে আসছে। ২০১৬-তেও ছিল। এবার তৈমুর কাকা বলছেন। আমি বলি সিন্ডিকেট করার সুযোগ নাই। যখন ২০১১-তে সুযোগ ছিল, তখনই আমি সিন্ডিকেট করি নাই। আর এখন তো প্রশ্নই ওঠে না। এখন তো ই-টেন্ডার। আরেকটি কথা, এই যে ঠিকাদার নির্ধারণের যে ক্রাইটেরিয়াগুলো, এটার বিরুদ্ধে আমি চিঠি লিখেছি মন্ত্রণালয়ে। ক্রাইটেরিয়া যেভাবে নির্ধারণ হয়েছে, তাতে বড় বড় ঠিকাদারেরা বড় বড় কাজ পায়। ছোট ঠিকাদারেরা ধারেকাছেও যেতে পারে না। আমার মনে হয় এটা পরিবর্তন করতে হবে যে মাঝারি ধরনের ঠিকাদারেরাও যাতে বড় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। এখানে তো আমার কোনো হাত নেই।

তৈমুর আলমের সঙ্গে আপনার ‘কাকা-ভাতিজি’ সম্পর্ক। নির্বাচনে হারলে সম্পর্কটা কেমন হবে?

আইভী: হারি আর জিতি যেটাই হই না কেন, জিতব তো ইনশা আল্লাহ। চাচার সঙ্গে আমার সম্পর্ক বজায় থাকবে, আমি তাঁকে নিয়েই কাজ করব। এখানে কোনো সমস্যা হবে না।

মানুষ কেন আপনাকে বারবার ভোট দেবে?

আইভী: মানুষের কাজ করেছি, মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। এই শহরের মানুষের কাছে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক নেই। আমি প্রাধান্য দিয়েছি তাদের চাহিদাকে; তারা কী চায়, কেমন শহর চায়।

সেদিন বলেছেন, ‘বনের হাতি বনে যাবে, নৌকা মার্কা জিতে যাবে’। যদি নৌকা ডুবে যায়?

আইভী: নৌকা ডুববে না। ইনশা আল্লাহ নৌকা এই শহরের মানুষ ভাসিয়ে রাখবে। আপনি দেখেছেন? জনস্রোত কোন দিকে। নৌকার পালে কিন্তু হাওয়া লেগেছে।

প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে?

আইভী: প্রশাসনকে বারবারই অনুরোধ করেছি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার জন্য। আমার মনে হয় হয়তো একটু-আধটু ভুল বা এদিক-সেদিক হলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ। আমি তো কোনো ফেভার চাই না। আমি প্রশাসনকে বলিনি আমাকে ফেভার করতে। আমি বলেছি নিরপেক্ষ থেকে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে, যাতে নির্বাচন স্বাভাবিক হয়, সুন্দর হয়। নির্বাচনটা শান্তিপূর্ণ হোক, এটা আমারও চাওয়া, তৈমুর কাকারও চাওয়া।

তৈমুর আলম অভিযোগ করেছেন, নারায়ণগঞ্জে বহিরাগতদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। প্রতি রাতে তাঁর নেতা-কর্মীদের বাসার সামনে পুলিশের গাড়ি বসে থাকে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে।

আইভী: এটা আসলে একদমই মিথ্যা অভিযোগ। বহিরাগত কোত্থেকে আসবে, বলেন তো। আমার চৌদ্দ পুরুষের ভিটামাটি তো নারায়ণগঞ্জে। বরং তৈমুর কাকার বাড়ি রূপগঞ্জে। ওনার নির্বাচনী প্রচারণায় সব রূপগঞ্জের লোক থাকে। তাহলে তো বহিরাগত হলে সব রূপগঞ্জ থেকে আসবে। আমার তো কোনো বহিরাগত নেই। আমার নানির বাড়ি এখানে, দাদার বাড়িও এখানে। কাকার লোকজন রূপগঞ্জ থেইকা আইসা সারা দিন প্রচার-প্রচারণা করে বিভিন্ন হোটেল-টোটেলে থাকে।

উনি (তৈমুর) জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে নানক ‘ঘুঘুর ফাঁদ’ দেখানোর কথা বলেছেন।

আইভী: ওনারা তো সেন্ট্রাল লিডার। ওনারা এখানে পলিটিক্যাল বক্তব্য তো দেবেন। এটা ওনাদের নিজস্ব ব্যাপার, ওনারা কী বলবেন। কিন্তু আমি তো ওনাকে কিছু বলিনি। আমি ভোটের ময়দানে ওনার সঙ্গে লড়াইয়ে আছি। জাতীয় পর্যায়ে উনিও রাজনীতি করেছেন। স্বাভাবিক কারণে বক্তব্যে একটু এদিক-সেদিক হতেই পারে।

নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন?

আইভী: কিছু আশঙ্কা করছি। কারণ, কাউন্সিরদের ব্যাপারে সমস্যা আছে। দুই পক্ষ-তিন পক্ষের টান টান উত্তেজনা আছে। এ রকম ১০-১২টা ওয়ার্ডে সমস্যা আছে। ৮টা তো মিনিমাম। ১৯ নম্বরে গতকালকে তো আমি যেতেই পারিনি দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের লাগালাগির জন্য। ভোটের দিন এ রকম কিছু ঘটলে ওনাদের (কাউন্সিলর) জন্য তো আমার ভোটও নষ্ট হবে।

জিতলে প্রথম কাজ কী হবে

আইভী: নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজটি হবে এবার কদম রসুলপুরের ব্রিজ। আমাদের অনেকগুলো কাজ আছে, এর মধ্যে ব্রিজটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এটা প্রায় শেষের দিকে। এরপর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনা একটা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে পিডিবির। এখানে ময়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। দেখাশোনা করছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। আমরা জায়গা দিয়েছি আর এমওইউ করেছি। প্রতিদিন আমরা ছয়-সাত টন ময়লা দেব। এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করার চেষ্টা করব। আমাদের ছয়টি মেগা প্রজেক্ট আছে। সেগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে আমি উদ্বোধন করাতে চাচ্ছি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে