তৈমিদং বনভাবনা কুঠিরে ১০তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবরদান উদযাপিত

0
988
চীবরকে অনুষ্ঠান মঞ্চে আনার দৃশ্য।

১০তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবরদান উদযাপন করেছে তৈমিদং বনভাবনা কুঠির।গত ৩/৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ পূণ্যানুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী পূণ্যারথী অংশ গ্রহন করে।

রাজবন বিহারের বিহার অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরসহ বনভান্তের বহু শিষ্যমন্ডী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরসহ বনভান্তের শিষ্যমন্ডলী।

দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে ৩ নভেম্বর বিকালবেলা হতে সুতা থেকে বেইন প্রস্তুত করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।সারা রাত বেইন বুনে সকালবেলায় চীবর তৈরীর কাজ সমাপ্ত হয়।

বৌদ্ধ ধর্মে বিশাখা প্রবর্তিত কঠিন চীবর দান পার্বত্য অঞ্চলে বনভান্তেই প্রথম চালু করেন।২৪ঘন্টার মধ্যে তুলা হতে সুতা তৈরী, সুতায় রং করে শুকিয়ে কাপড় বুনে চীবর সেলাই করে ভিক্ষসংঘের উদ্দেশ্যে দান করা হয়।

বোধিবৃক্ষের নীচে তৈমিদং বনভাবনা কঠিরের বিহার অধ্যক্ষ মহানন্দ মহাস্থবির ভান্তে।এ বোধিবৃক্ষটি রোপন করেন মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা ও জ্যোতিন্দ্রীয় বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু)’র পিতা চিত্ত কিশোর চাকমা।

৪ নভেম্বর সকালবেলার অনুষ্ঠানে সকালবেলায় বুদ্ধপূজা, সীবলী পূজা, পিন্ডদান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, হাজার বাতিদান, বুদ্ধ মুর্তিদান, প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকা দানসহ নানাবিধ দানীয় বস্তু ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে পূণ্যার্থীরা দান দেন। এ পূণ্যানুষ্ঠান ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু করা হয়। পঞ্চশীল গ্রহনের পর দানীয় সামগ্রী দান উৎসর্গ করা হয়।

সুধর্মানন্দ মহাস্থবির ভান্তে ও আর্যদ্বীপ মহাস্থবির ভান্তে অনুষ্ঠানে স্বধর্ম দেশনা প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করছেন ঝিনুকা চাকমা।

বিকাল ১:৩০ মিনিটে ব্যান্ডদলের বাজনা আর উচ্ছাসের মাধ্যমে বেইনঘর হতে চীবরকে অনুষ্ঠান মঞ্চে আনে।পরে বুদ্ধের পতাকাবাহী দল ও ব্যান্ডদলের বাজনা বাজিয়ে ভিক্ষুসংঘকে মঞ্চে আনে।

অনুষ্ঠানের মূলপর্বে কঠিন চীবরদান, অষ্টপরিস্কারদান, হাজার প্রদীপদান,ফানুশবাতিদান, কল্পতরুদান, প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকাদানসহ নানাবিধ দানীয় সামগ্রী ভিক্ষুসংঘকে দান করে।

উপস্থিত পূণ্যার্থীদের একাংশ।

ধর্ম দেশনা প্রদান করেন প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির, জিনবোধি মহাস্থবির ও পূর্ণজ্যোতি মহাস্থবির ভান্তে। প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তে বলেন, যতগুলো উত্তম দান রয়েছে তদমধ্যে প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকাও উত্তম দান। কঠিন চীবর দানে যেরুপ পূণ্য লাভী বা ফললাভী হওয়া যায় বিশ্বশান্তি প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকা দান করলেও সেরুপ ফললাভী হওয়া যাবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চলানা করছেন প্রান্তি চাকমা।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাধন কুমার চাকমা, জ্যোতিন্দ্র লাল চাকমা, কানন চাকমা,চেয়ারম্যান কুতুকছড়ি ইউপি।উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে ঝিনুকা চাকমা, কীবোর্ড সহযোগিতায় অংক থুয়াই মারমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় প্রান্তি চাকমা ও প্রজ্ঞাবীর চাকমা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে