তেলের দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে রসুনের

0
39

হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছিল প্রধান নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য চাল এবং ভোজ্যতেলের দাম। তবে এক সপ্তাহ ধরে অল্প হলেও পণ্য দুটির দাম কমায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ক্রেতারা। সপ্তাহের ব্যবধানে সেদ্ধ চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা কমেছে। ভোজ্যতেলের দামও লিটারে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। আর রসুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ সময় অন্যান্য পণ্যের দামেও তেমন হেরফের ঘটেনি।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মোটা চাল গুটি বা স্বর্ণা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ৪৮ থেকে ৫২ টাকা ছিল। মাঝারি চাল বিআর-২৮, লতা, পাইজাম ছিল ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা। এখন এই চাল পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। সরু চাল কেজিতে গড়ে ২ টাকা কমেছে। প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী বনি আমিন বলেন, এবার সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি হলেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কারণ সরকার মিল মালিকদের চাল আমদানির সুযোগ দিয়েছে। এতে বাজারে দুর্যোগের সময়ে চড়া দামেই চাল বিক্রি হয়েছে। অথচ আগে মিলাররা চালের সংকটের কথা বলে দাম বাড়িয়েছেন। এর পরে সরকার যতটুকু আমদানির অনুমতি দিয়েছে, তাও আমদানি হয়নি। কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, এখন দেশি চালের মৌসুম চলে এসেছে। ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। নতুন ধানের চাল শিগগিরই বাজারে আসবে। তাই মিলগুলোর মজুদ চাল এখন দাম কমিয়ে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

বাজারে ভোজ্যতেলেরও দাম কমেছে। গত সপ্তাহে নতুন দাম লিটারে গড়ে ৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর দু’দিনের মধ্যেই আবার মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে লিটারে ৩ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সমিতি। ফলে বাজারে এখন সয়াবিন তেলের বাড়তি দাম কমেছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কোম্পানিভেদে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে তা বিক্রি হয়েছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়।

মিরপুর-১নং বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, ভোজ্যতেলের দাম শেষ পর্যন্ত নতুন করে আর বাড়েনি। তাছাড়া দোকানগুলোতে এখনও আগের কম দামের কেনা তেল পর্যাপ্ত রয়েছে। এ কারণে কম দামে বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৪ টাকা কমেছে। আগে ১২৬ টাকা লিটার বিক্রি হতো। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১২২ টাকায়। এই বাজারে কোম্পানিভেদে খোলা সয়াবিন তেলের লিটার এখন ১২০ থেকে ১২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পাম তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১২ টাকায়।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। ডিমের ডজন এখন ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। ঈদ ঘনিয়ে আসায় খুচরা বাজারে আবার পণ্য কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। গতকাল বাজারে ব্যাগভর্তি সেমাই, নুডলস, চিনি, কিশমিশ, বাদামসহ নানা ঈদ আয়োজনের পণ্য কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। তবে এসব পণ্যের দাম তেমন হেরফের হয়নি বলে জানান মিরপুর-১ নম্বরের ব্যবসায়ী আবুল কাসেম।

বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ চলছে বেশি। এই পণ্যের দামেও তেমন হেরফের নেই। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১১০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে