তিস্তা চুক্তি সইয়ে মোদির হাত কিছুটা খোলা: শশী থারুর

0
158
ভারতের কংগ্রেস দলীয় সাংসদ শশী থারুর

ভারতীয় লোকসভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি ও কেরালার তিরুবনান্তপুরম থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস দলীয় সাংসদ শশী থারুর বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্বেগ ছিল। দিল্লি কখনো বাধা ছিল না। এটা কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয় সরকারের জন্য সত্য। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মনমোহন সিং সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তাই মমতার ‘না’ মানেই ছিল ভেটো। কিন্তু এখন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি সরকারের অংশ নন। তাই তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে মোদি সরকারের হাত কিছুটা হলেও খোলা রয়েছে।

লিটফেস্টে অংশ নিতে দুই দিনের সফরে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর ঢাকায় এসেছিলেন। গতকাল বিকেলে ঢাকা ত্যাগের আগে তিনি বাংলা একডেমিতে প্রথম আলোর মুখোমুখি হন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে ভারত সরকারের ব্যর্থতাকে তিনি কীভাবে দেখেন? কংগ্রেস তার ২০১৯ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহার করার সংকল্প ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশে এর কী প্রভাব পড়বে?

জবাবে শশী থারুর বলেন, ‘এই মুহূর্তে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহের বিষয়ে উজানে ও ভাটিতে একটা স্থিতাবস্থা বিরাজমান। আমাদের অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, চীন উজানে ব্যাপক ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করছে। অবশ্য এ পর্যন্ত চীন আমাদের আশ্বস্ত করেছে এবং সব সাক্ষ্যপ্রমাণ নিশ্চিত করছে যে, এই সবই পানি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট। পানি বাঁধে প্রবেশ করে আবার তা বেরিয়ে পড়ছে। এভাবে পানির প্রবাহ চলমান রয়েছে। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত চীন আমাদের পাশে প্রবাহ কমাতে কিছু না করছে, আমি ততক্ষণ কোনো উদ্বেগ বা করণীয় আছে বলে মনে করি না। কিন্তু এটাও সত্য যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যেমন সিন্ধু চুক্তি রয়েছে, সেভাবে চীন ও ভারতের মধ্যে কোনো চুক্তি নেই। সুতরাং ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের ভাটিতে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণে ন্যূনতম পানি প্রবাহ বজায় রাখতে কোনো আন্তর্জাতিক আইনগত দায় নেই। তাই যদি কখনো চীন সরকার একটি ভিন্নতর দৃষ্টিভঙ্গি নেয়, তখন তা আমাদের জন্য একটা উদ্বেগের বিষয় হবে। এই মুহূর্তে এই বিষয়ে আমার খুব বেশি উদ্বেগ নেই। কিন্তু আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের পরিশীলিত প্রযুক্তির উদ্ভাবন করা দরকার।’

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ‘উচ্চতম পর্যায়ে’ পৌঁছানোর বিষয়টি কংগ্রেস কীভাবে দেখে? জানতে চাইলে শশী থারুর বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক চমৎকার রূপ নিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, ভারতীয় স্বার্থ ও তার বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক মাত্রায় গঠনমূলক মনোভাব প্রদর্শন করায় আমি বাংলাদেশের বিরাট প্রশংসা করি। বিশেষ করে আমি বাংলাদেশের এই গঠনমূলক মনোভাব নিরাপত্তা বিষয়ে এবং বাংলাদেশকে অভয়ারণ্যে পরিণত করা উত্তর-পূর্ব ভারতের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। এটা বিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি অনন্যসাধারণ পদক্ষেপ। তাই আজ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার যে সুসম্পর্ক বিরাজমান, সে জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ভূমিকা রাখায় আমি বাংলাদেশের প্রশংসা করব।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে