তপোবন অরণ্য কুঠিরে প্রবারণা উদযাপন

0
1156
প্রবারণা সংগীত পরিবেশন করছেন পূর্ণসংকর চাকমা, পূর্ণিমা চাকমা ও লক্ষ্মীদেবী চাকমা।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নে তপোবন অরণ্য কুঠিরে আজ শুক্রবার প্রবারণা উদযাপন করা হয়েছে। তিনমাস বর্ষাবাসের সময় বৌদ্ধ ভিক্ষু যে কিয়াংয়ে অবস্থান করেন সে কিয়াংয়ে বা কুঠিরে প্রবারণা অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।  আগাম প্রবারণা উদযাপন করা হলেও বর্ষাব্রত সমাপ্ত করবেন কুঠিরে অবস্থানরত ভিক্ষুসংঘ আগামী ১৩ অক্টোবর আশিনী পূূর্ণিমা তিথিতে।

প্রবারণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভিক্ষুসংঘ।

রাজবন বিহারের বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তেসহ বিভিন্ন শাখা বনবিহার হতে আগত জেষ্ঠ ভিক্ষু সংঘ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন । দুরদুরান্ত হতে অসংখ্য পূণ্যার্থী ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সাথে গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত পূণ্যার্থীরা।

শুরুতে উপস্থিত ভিক্ষুসংঘকে পুষ্পস্তবক প্রদান করে সাদর সম্ভাষণ জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও কঠির পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ। প্রবারণা উপলক্ষে বৌদ্ধ সংগীত পরিবেশন করেন উদীয়মান ও জনপ্রিয় তরুণ কন্ঠ শিল্পী পূর্ণসংকর চাকমা, পূর্ণিমা চাকমা ও লক্ষ্মীদেবী চাকমা। কী বোডে সহযোগিতায় ছিলেন তরুণ বাদক মিল্টন চাকমা।

এক মিনিট ভাবনা করা হয়।

পঞ্চশীল গ্রহনের পর সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, হাজারবাতি দান, বুদ্ধমুর্তিদান, প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকা দানসহ নানাবিধ দানকার্য উৎর্গসহকারে পূণ্যানুষ্ঠান সুসম্পন্ন করা হয়।

পূণ্যার্থীদের শীল গ্রহন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় গিরি চাকমা শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, কোন কোন ভিক্ষু বুদ্ধের দেশিত ধর্ম ও শ্রদ্ধেয় বনভান্তের উপদেশ বা নীতি বর্হিরভূত আচরণ করছেন। সেজন্য উপস্থিত সিনিয়র ভিক্ষুসংঘকে সমাধান বা ব্যাখ্যা দিতে অনুরোধ করেন।

বক্তব্য রাখছেন বালুখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা।

অনুষ্ঠানে এডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, আমি বিএনপি করি জাতির বা জগণণের উন্নয়নের জন্য। চাকমাদের চারণকবি বা সাধক কবি শিবচরণের শ্লোক দিয়ে বলেন-দেশ ও জাত ন বাজিলে ধর্ম থেব হুদু, গাজত ফল ন ফুদিলে মুধু পেব হুদু।অর্থাৎ ‘দেশ ও জাত না বাঁচলে ধর্ম ঠিকবে কোথায়, গাছে ফুল না ফুটলে মধু পাবে কোথায়।’  আগে দেশ জাত বাঁচাতে, তারপর ধর্ম। দেশ জাত বাঁচাতে হলে বুদ্ধের বাণী ‘মৈত্রী- করুণা-মুদিতা- উপেক্ষা’ শুনতে হবে। ধৈর্য, নিরবতা ধারণ করে কাজ করে যেতে হবে।’

বক্তব্য রাখছেন এডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

তপোবন অরণ্য কুঠির অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জিনপ্রিয় মহাস্থবির ধর্ম দেশনায় বলেন, যে যাই বলুক কর্ণপাত করবেন না। বনভান্তের কথা শুনবেন, বনভান্তের নীতিতে চলবেন। আমি এক মাসের জন্য শ্রামণ হয়েছি, বনভান্তের কথায় আজ ভিক্ষুত্ব জীবনও আটাশ বর্ষা অতিক্রান্ত করলাম। আপনাদেরও বনভান্তের নীতি অনুসরণ করে চলতে হবে।

দেশনা প্রদান করছেন রাজবন বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তে।
দেশনায় রত শ্রীমৎ বুদ্ধশ্রী মহাস্থবির ভান্তে।

অনুষ্ঠানে আরো ধর্ম দেশনা প্রদান করেন শ্রীমৎ বুদ্ধশ্রী মহাস্থবির ও শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তে। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মুন চাকমা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন মুন চাকমা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে