ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১২ কিলোমিটারে ধুলার রাজত্ব

0
136
যানবাহন চলাচল করলেই ধুলা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী আনারকলি এলাকায়।

পিচঢালাই উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সড়ক বিভাজকের দুই পাশে জমেছে বালুর স্তূপ। কোনো যানবাহন এলে বা আচমকা বাতাসে বালু ও ধুলা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ধুলাবালি উড়ে গিয়ে পড়ে আশপাশের দোকানে। হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয় পথচারী ও স্থানীয় লোকজনের।

এ চিত্র ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী সেতু থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত। এই ১২ কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দে ভরা। গাড়ি চলে হেলেদুলে। তার ওপর সম্প্রতি নতুন করে যোগ হয়েছে ধুলার যন্ত্রণা।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এ কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। যত্রতত্র পড়ে আছে মাটি ও বালু। যান চলাচলের সময় জমে থাকা এসব বালু ও মাটি বাতাসে ওড়ে। কিন্তু এসব ধুলাবালি কমাতে কোনো ব্যবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ। দু-এক দিন হঠাৎ পানি ছিটিয়ে দেয়, তা–ও নামমাত্র। এ কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে না।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সড়কটির টঙ্গী সেতু থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এসব গর্তে জমে আছে বালু। এ ছাড়া সড়ক বিভাজকের দুই পাশে জমেছে বালুর স্তূপ। সড়কের ধারে পড়ে আছে ছোট ছোট ইটের খোয়া, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। সড়কটিতে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন। যানগুলো চলার সময় ধুলা ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। একসঙ্গে একাধিক যান চলাচল করলে সেখানে টেকা দায় হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত। সড়কের ৬০০-৭০০ মিটারের পুরোটাতেই জমে আছে বালুর আস্তরণ। যানবাহন চলাচল করলেই ধুলায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। আশপাশের দোকান, মার্কেটসহ অন্য স্থাপনাগুলোর লোকজনও টিকতে পারছে না ধুলার যন্ত্রণায়।

সড়কটির আনারকলি রোড এলাকায় মুখে মাস্ক পরে ঢাকাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন টঙ্গীর ভরান এলাকার মেহেদি হাসান। তিনি বলেন, সড়কের ধুলার কারণে কোনো কাপড় এক দিনের বেশি পরা যায় না। অফিস থেকে বাসায় ফিরে প্রতিদিনই কাপড় ধুতে হয়।

সড়কের পূর্ব পাশে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করেন আলমগীর হোসেন। ধুলা নিয়ে কথা উঠতেই তিনি বলেন, ‘আর বইলেন না ভাই, ২৪টা ঘণ্টা ধুলার মাঝে ডিউটি করতে হয়। মাঝেমধ্যে নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। গলা ব্যথা করে, বুক জ্বলে। অনেক সময় ধুলায় টিকতে না পেরে বুথের ভেতর অবস্থান করতে হয়।’

ধুলা থেকে বাঁচতে অনেক দোকানি তাঁদের দোকানের সামনে আলাদা করে একধরনের পর্দা লাগিয়েছেন। আবার রাস্তায় চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালকেরাও ধুলা থেকে বাঁচতে পরেন ধুলা প্রতিরোধক জ্যাকেট। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জামান হোসেন নামের এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, জ্যাকেট ছাড়া একমুহূর্ত গাড়ি চালানো যায় না। ধুলায় কাপড় সাদা হয়ে যায়।

একই চিত্র দেখা যায় চেরাগআলী, মিলগেট, কলেজগেট, সাইনবোর্ড, বোর্ডবাজার, কুনিয়া, বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায়।

নাম না প্রকাশের শর্তে সড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘যেদিন পানি ছিটায়, সেদিন রাস্তা মোটামুটি ভালো থাকে। শান্তিতে ডিউটি করা যায়। কিন্তু এরা ঠিকমতো পানি দেয় না। এক দিন আসে তো তিন দিন কোনো খবর থাকে না। এ কারণে রাস্তায় এত দুর্ভোগ।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাসড়কের ওই অংশে বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। আগে সড়কটি ছিল গাজীপুর সড়ক বিভাগের অধীনে। তখন তারাই এর দেখভাল করত। কিন্তু বিআরটি প্রকল্পের কাছে হস্তান্তর করার কারণে এখন তাদের ওপরই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব।

এ ব্যাপারে বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক চন্দন কুমার বসাক বলেন, ‘নিয়মিতই সকাল-বিকেল পানি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু অনেক সময় পানি দিতে গেলে রাস্তা ব্লক হয়ে যায়। এ কারণে পুরো রাস্তায় পানি ছিটাতে পারি না। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ রাস্তা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তা পরিষ্কার করি। কিন্তু কাজ চলমান থাকায় তা খুব একটা কার্যকর হয় না।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে