ঢাকা ক্যাসিনোর শহরে উন্নতি লাভ করেছে: রিজভী

0
231
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বদৌলতে ঢাকা এখন ক্যাসিনোর শহরে উন্নতি লাভ করেছে। চারদিক ডুবে গেছে লুটপাট, খুন, ধর্ষণ, মদ, জুয়া, ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি ও অনাচারে।

আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গত বুধবার থেকে মূলত রাজধানীতেই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ওইদিন মতিঝিলের ইয়ংমেনস, ওয়ান্ডারার্স, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ওইদিন এসব ক্লাব সিলগালা করে দেওয়া হয়। মতিঝিলে অভিযানের সময় ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের বাসা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার রাতে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। কলাবাগানে অভিযানের আগে ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলমকে (ফিরোজ) অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ধানমন্ডি ক্লাবের বার শুক্রবার সিলগালা করে দেয় র‍্যাব। গতকাল রোববার ঢাকা ছাড়া চট্টগ্রামেও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলে। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একাধিক নেতা এ অভিযানকে লোকদেখানো বলে সমালোচনা করেছেন। অভিযানের ফলে শাসক দলের দুর্নীতি বেরিয়ে আসছে বলেও তাঁরা একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। আজ রিজভীর কণ্ঠেও ছিল চলমান অভিযান নিয়ে সমালোচনার সুর।

রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের হরিলুটে গোটা দেশটা ফোকলা হয়ে গেছে। ব্যাংকে টাকা না থাকায় এখন সরকারি, আধা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তহবিলে হাত দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় একটি ইতিবাচক আলোচনায় থাকতে দুর্নীতি-অনাচারের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযান আইওয়াশ কি না—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ লোকদেখানো এ অভিযানে অধরাই থেকে যাচ্ছেন মাদক ও দুর্নীতিবাজদের গডফাদাররা।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের চুনোপুঁটি নেতারা আঙুল ফুলে একেকটা বটগাছ হয়ে গেছেন। ক্ষমতাসীন যুবলীগের নেতারা ঢাকায় চালাচ্ছেন ৬০টি ক্যাসিনো, ঢাকার বাইরেও রয়েছে আরও অসংখ্য ক্যাসিনো, যেখানে প্রতি রাতে শত শত কোটি টাকা উড়ছে জুয়ার টেবিলে। মাদকের ব্যবসা চলছে দেদারসে। এর পাশাপাশি অবৈধ নাইট ক্লাব, পানশালা, বাগানবাড়ি, এমনকি তাঁদের ঘরে ঘরে জুয়া ও মাদকের আসর বসছে।

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি পাচার হয়েছে , ২০১৮ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা টাকার পরিমাণ ৫ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। সারা দেশে ঋণখেলাপির পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। দেশের ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট, টাকার খোঁজে সরকার। মূলধন সংকটে দেশের ১১টি ব্যাংক। শেয়ারবাজার, ব্যাংক, কয়লা,পাথর,পর্দা, বালিশ, টিন, বই, চা, চেয়ার,টেবিল-সবকিছুতেই দুর্নীতি গিজগিজ করছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.