ঢাকায় বাস চালাতে দৈনিক চাঁদা দিতে হয় ২২০০ টাকা

0
210
ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগরের অভ্যন্তরীণ পথে এবং রাজধানী থেকে দূরপাল্লার বাস চালাতে প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয় এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। মালিক ও শ্রমিক সমিতির নামে এ চাঁদাবাজি চলছে।

প্রতিদিন এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে ঢাকায়। এক দশক আগেও বাসপ্রতি দৈনিক চাঁদা দিতে হতো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

নবগঠিত সংগঠন সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

লিখিত বক্তব্যে চাঁদাবাজির জন্য মালিকদের সংগঠন সড়ক পরিবহন সমিতিকে দায়ী করা হয়। এ সময় চাঁদাবাজি বন্ধসহ ৯ দফা দাবি জানিয়ে বলা হয়, একজন ‘গডফাদার’ সমিতিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি গত কয়েক বছরে নিজস্ব পরিবহন সংস্থার ব্যানারে শত শত বাস নামিয়েছেন। মালয়েশিয়া, কানাডা ও থাইল্যান্ডে বিপুল সম্পদ পাচার করেছেন।

সংগঠনের সদস্য সচিব ইসমাইল হোসেন বাচ্চু সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে দাবি করেন, সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ঐক্য লীগের নেতাদের দাবি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার এনায়েত সংগঠনে ‘অনুপ্রবেশকারী’।

খন্দকার এনায়েত যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল।

ইসমাইল হোসেন বাচ্চু দাবি করেন, এখনও পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হাতে। তারা সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল কমিটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও রয়েছেন। তাদের অপসারণ করা না গেলে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য দূর হবে না।

সদস্য সচিব অভিযোগ করেন, গাড়ির কাগজপত্র দেখার নামে পুলিশ প্রতিদিন চালক-মালিকদের হয়রানি করছে। এ হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজি বন্ধ, টার্মিনালগুলো থেকে ‘পিস্তল বাহিনী’ উৎখাত, পরিবহন শ্রমিকদের মাসিক বেতনে নিয়োগ, চালকদের সহজে লাইসেন্স দেওয়া, দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও টার্মিনালে বিশ্রামাগার নির্মাণসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয়। ঐক্য লীগের আহ্বায়ক এম শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহারুল ইসলাম সোহেল ও নজরুল ইসলাম মন্টু, সদস্য বদিউজ্জামান মন্টু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.