ড্রোন রপ্তানির স্বপ্ন মীর শাহরিয়ারের

0
85
মীর শাহরিয়ার আলম

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে কুমিল্লার যুবক মীর শাহরিয়ার আলম তৈরি করেছেন পাঁচটি মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন)। তাঁর স্বপ্ন একদিন বিশ্বে প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে তিনি উন্নততর প্রযুক্তির ড্রোন-রোবট তৈরিতে গবেষণা শুরু করেছেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কোমারডোগা গ্রামের যুবক মীর শাহরিয়ার আলম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট (এমসিটি) থেকে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এমসিটি বিভাগ শাহরিয়ার আলমের গবেষণা এগিয়ে নিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দাবি করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আকাশ জয়ের কাহিনি পড়ে ২০১০ সালের দিকে আকাশযান তৈরির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। তখন থেকে স্বপ্ন দেখতেন, একদিন আকাশে নিজের তৈরি ড্রোন-বিমান ওড়াবেন এবং রোবট আবিষ্কার করবেন। এমন আগ্রহ থেকেই ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তৈরি করেছেন মনুষ্যবিহীন ড্রোন। ড্রোনগুলোর এয়ারফ্রেম তৈরিতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ককশিট, অ্যালুমিনিয়াম পাইপ ও বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার হয়েছে। প্রসেসিং ইউনিটে প্রসেসর এবং সেন্সরে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সিলেরোমিটার, গাইরোস্কোপ, ব্যারোমিটার ও জিপিএস সিস্টেম। হার্ডওয়্যার পরিচালনায় ব্যবহার হয়েছে নিজস্ব তৈরি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যার।

শাহরিয়ারের দাবি, তাঁর আবিষ্কৃত ড্রোনগুলোর সাহায্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বন্যাকবলিত বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ, নির্দিষ্ট এলাকা টহল দেওয়াসহ ভালো রেজুলেশনের ছবি, ভিডিও সংগ্রহ এবং সরাসরি সম্প্রচার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি ড্রোনগুলো গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীও ব্যবহার করতে পারবে।

শাহরিয়ার বলেন, তাঁর তৈরি ড্রোনের সমমানের একটি ড্রোন কিনতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় হবে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। কিন্তু একই সুবিধাসম্পন্ন তাঁর ড্রোনগুলো তৈরি করতে খরচ পড়েছে মাত্র ২৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। সরকারের সহযোগিতা পেলে রাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী তিনি স্বল্প খরচে উন্নত ড্রোন-রোবট তৈরি করতে পারবেন।

এ ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও কম্পিউটারের গেম তৈরির প্রোগ্রামিংয়েও শাহরিয়ারের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। তাঁর স্বপ্টম্ন, অধিকতর গবেষণার মাধ্যমে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় রোবট ও ড্রোন তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে সুপরিচিত করে তোলা।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এমসিটি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শেখ মোহাম্মদ আলাইয়ার বলেন, শাহরিয়ার আলমের মতো যারা রোবট ও ড্রোন নিয়ে গবেষণা করে দেশের জন্য অবদান রাখতে চায়, তাদের সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। তা না হলে মেধাবীরা এসব প্রযুক্তিগত গবেষণায় এগিয়ে আসবে না।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের মেধাবীরা রোবট, ড্রোনসহ প্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চাইলে পাশে দাঁড়াব। তরুণদের যে কোনো আবিষ্কার ও গবেষণা দেশের জন্য কল্যাণকর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.