‘ডোন্ট টাচ মাই ক্লথ’

আফগান নারীদের প্রতিবাদ

0
32
আফগান নারীদের প্রতিবাদ

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবান নারীদের বাধ্যতামূলকভাবে বোরকা পরার যে বিধান দিয়েছিল, তার প্রতিবাদে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে সরব হয়েছেন আফগান নারীরা।

‘আমার কাপড় স্পর্শ করো না’ (হ্যাশট্যাগ ডোন্টটাচমাইক্লথস) শিরোনামে পোশাকের বাধ্যবাধকতার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তারা। শুধু তাই নয়, টুইট পোস্টে আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ছবিও প্রকাশ করেছেন তারা। খবর সিএনএনের।

গত ১০ আগস্ট আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের বলখ প্রদেশে এক নারীকে আটসাঁটো পোশাক পরার অপরাধে গুলি করে হত্যা করেছে তালেবান।

ক্ষমতা দখলের পর আফগান নারীদের স্বাধীনভাবে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তালেবান। তারা ফতোয়া দিয়েছে, কোনো নারীই পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে না। বাড়ির বাইরে গিয়ে নারীদের কাজ করাও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারীদের ওপর নিপীড়নের খবর আসছে আফগান গণমাধ্যমে।

‘হ্যাশট্যাগ ডোন্টটাচমাইক্লথস’ ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া নারীরা তাদের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করায় তালেবান নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন।

‘হ্যাশট্যাগ ডোন্টটাচমাইক্লথস’- এর পাশাপাশি ‘হ্যাশট্যাগ আফগানিস্তানউইমেন’ ও ‘হ্যাশট্যাগআফগানিস্তানকালচার’ শিরোনামেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন নারীরা।

টুইটারের পাশাপাশি ফেসবুকেও চলছে প্রতিবাদ।

তালেবানের বন্দুকের মুখে গোটা আফগানিস্তান জুড়ে প্রতিবাদ যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তার বিপরীত চিত্রও দেখেছে কাবুল। তালেবানের পক্ষ নিয়ে দুদিন আগে হিজাব-বোরকায় আচ্ছাদিত একদল নারীও কাবুলে সমাবেশ করেছে।

তাদের সেই সমাবেশ থেকে বলা হয়, ‘মেকআপ নিয়ে আধুনিক পোশাক পরা আফগানিস্তানের মুসলিম নারীদের প্রতিচ্ছবি নয়’ এবং ‘শরিয়াহ আইনের বিরোধী বিদেশি নারী অধিকার আমরা চাই না’।

সেই সমাবেশের পরই আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণিল পোশাক পরে প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছে।

আফগানিস্তানের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বাহার জালালি সোশাল মিডিয়ায় এই প্রতিবাদের সূচনা করেন হ্যাশট্যাগ দুটি ব্যবহার করে।

সবুজ রঙা এক ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে টুইটারে হাজির হন তিনি। অন্যদেরও তিনি অনুপ্রাণিত করেন তাকে অনুসরণ করতে, দেখাতে যে এটাই আফগানিস্তানের ‘প্রকৃত চিত্র’।

এক আফগান নারীরা টুইট পোস্টে লিখেছেন, ‘তারা আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। মানুষ মারছে। এর প্রতিবাদে  আমি, আমার মা, খালা ও বোনরা সবাই আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেই প্রতিবাদ জানাচ্ছি।  যারা আমাদের দমিয়ে রাখতে চায়, আমরা তাদের নীতিকে কখনও অনুমোদন করব না।’

আফগান নারী

অধ্যাপক বাহারের আহ্বান দ্রুতই সাড়া ফেলে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আফগান নারীদের মধ্যে।

বহু জাতি, গোত্রের দেশ আফগানিস্তানে নারীদের পোশাকেও রয়েছে স্বাতন্ত্র্য; সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদী এই নারীদের পোশাকেও সেই বৈচিত্র্য রয়েছে। কেউ পরেছেন বড় কামিজ, কেউ আবৃত হয়েছেন লেহেঙ্গায়, কারও মাথায় টুপিও রয়েছে; তবে রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে ঐক্যের টান। সবারই পোশাকে রয়েছে রঙ-বেরঙের ছাপ।

আর তারা সবাই এক বাক্যে বোঝাতে চেয়েছেন, এই পোশাক তাদের জাতিসত্তার স্বতন্ত্র্য পরিচয় তুলে ধরে।

তালেবান ফতোয়া দিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারীদের অবশ্যই নেকাব পড়তে হবে। পুরুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্রে যেন ক্লাস করতে না পারে সেজন্য ক্লাসরুমের মাঝে পর্দা তুলে দেওয়া হয়েছে তালেবানের নির্দেশনায়।

তালেবানের নারী নীতি বিশ্বজুড়ে চলছে কঠোর সমালোচনা। তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে পশ্চিমা দেশগুলো শর্ত জুড়ে দিয়েছে, নারীদের স্বাধীনতা  ও বাক স্বাধীনতার অধিকার দিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে