ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১২৩ জন হাসপাতালে

0
44
বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

গত রোববার সারা দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১০৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত একদিনে রাজধানীতে ১২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন ৪৬০ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮০২ জন।  তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৩৩১ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে মারা গেছেন ৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ৫৯ জন,  ঢাকা শিশু হাসপাতালে ২২ জন, মগবাজারের আদ দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৩ জন, কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৫১ জন, খিদমা হাসপাতালে ২৫ জন, ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৩৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

ঢাকার ১২টি সরকারি ও ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে ক্রমাগত।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন,  ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তিনি জানান, রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,  টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এডিসসহ অন্যান্য মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে যে এলাকায় অর্থাৎ যে বাসা-বাড়িতে রোগী পাওয়া যাবে হাসপাতাল থেকে সেই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা নিয়ে তার বাসাসহ ঐ অঞ্চল চিহ্নিত করে বিশেষ চিরুনি অভিযান চালানো হবে।

ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে গঠিত ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় সেল’-এ এবং দুই  সিটি কর্পোরেশনে পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য রাজধানীর উভয় সিটি করপোরেশন দশ জন করে ম্যজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করার পরও বাসা-বাড়ি অথবা ভবনে পুনরায় দুই-তিনগুণ মশার লার্ভা পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।  তাজুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে