ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের ১৪ নাবিক উদ্ধার

0
233
রাবনাবাদ চ্যানেলের মোহনা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ এম ভি গলফ আরগোর এর ১৪ নাবিককে উদ্ধার করা হয়। ছবি: আইএসপিআরের সৌজন্যে

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ মোহনাসংলগ্ন এলাকায় ডুবে যাওয়া কনটেইনারবাহী কার্গো জাহাজ এমভি গলফ আরগোর ১৪ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ সাঙ্গুর সহায়তায় আজ শুক্রবার সকালে নাবিকদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, জাহাজের ক্যাপ্টেন কাজী আবদুল্লাহ আল মুহিত (৩৫), প্রধান প্রকৌশলী হাসান রেজা খালিদ (৩২), চিফ অফিসার কাজী মাহমুদ আলম (২৮), প্রকৌশলী নূর আলম হিমেল (২৬), মাস্টার মোজাম্মেল হোসেন (২৪), বোসন মেট রফিক উল্লাহ (৫৯), অ্যাবল সিম্যান মো. জুবায়ের হোসেন (২৪), অর্ডিনারি সিম্যান সুজন মুখার্জি (২০), মো. সাহাবুদ্দিন (২১), সৈনিক শাহদাত হোসেন (৩৭), জমিরুল ইসলাম (৩০), শহিদ মিয়া (২৩), মো. রাজু (২৫) ও আবদুর রশিদ (৫০)।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার সময় রাবনাবাদ মোহনাসংলগ্ন ফেয়ারওয়ে বয়া থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার গভীর বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে এমভি জুলফার নামে লাইটার জাহাজ ডুবেছে বলে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল । পরে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, জাহাজটির নাম হবে এমভি গলফ আরগো। আর এটি লাইটার নয়, কনটেইনারবাহী কার্গো জাহাজ।

শুক্রবার বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, এমভি গলফ আরগোতে ১৫২টি কনটেইনার ছিল। এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। একপর্যায়ে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় কনটেইনারসহ জাহাজটি ডুবে যায়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের সহকারী তথ্য কর্মকর্তা এস এম শামীম আলমের প্রেরিত তথ্যে আরও জানা গেছে, নাবিকেরা বর্তমানে নৌবাহিনীর জাহাজ সাঙ্গুতে অবস্থান করছে। উদ্ধার হওয়া লোকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়েছে। সাঙ্গু পায়রা বন্দরে ফিরলে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় উদ্ধার হওয়া নাবিকদের সহায়তা দিতে নৌবাহিনীর অপর একটি দল পায়রা বন্দর থেকে রওনা হয়। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় পায়রা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছাকাছি গিয়ে ওই দলটি ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, জাহাজটি বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় এলাকায় চলাচলের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছিল। এটি গত বছর ডিসেম্বরে নির্মাণ করা হয়। লম্বায় ৮২ মিটারের এই জাহাজটির পণ্য পরিবহন ক্ষমতা ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন।

নৌ–বাণিজ্য বিভাগের মুখ্য কর্মকর্তা ও মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট সাজিদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে