টাক হয় যে কারণে

0
169
প্রতীকী ছবি

চুলপড়া সমস্যার চিকিৎসা যত বেশি জরুরি, তার চেয়ে জরুরি রোগীর আস্থা ও ধৈর্য। কারণ ধৈর্য ধরে যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।

চুলপড়া সমস্যা সব বয়সেই হতে পারে। চুলপড়া সমস্যা কোনো রোগ নয়। যে কোনো রোগ অথবা সমস্যা থেকে চুল পড়তে পারে। মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস হচ্ছে পুরুষের চুলপড়া সমস্যার অন্যতম একটি ধরন। সাধারণত জিন ও পুরুষ সেক্স হরমোন হিসেবে খ্যাত টেস্টস্টেরনই এ জন্য দায়ী। এ ধরনের চুলপড়া সমস্যাকে অ্যাড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বলা হয়। এ ধরনের চুলপড়া সমস্যা বুঝতে বা ডায়াগনসিস করতে খুব একটা সমস্যা হয় না।

হেয়ারলাইন বা কপালের ওপরের  অংশের চুল ফাঁকা হয়ে যায় এবং মাথার উপরিভাগের অংশে চুল কমে যায়। এ ক্ষেত্রে চুল পড়ার ধরন দেখেই বোঝা যায়, এটা হরমোনাল বা বংশগত কারণে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ হরমোনজনিত চুলপড়া সমস্যার কোনো ভালো চিকিৎসা নেই। কারণ হরমোন পরিবর্তন করে চুলপড়া সমস্যার চিকিৎসা যৌক্তিক নয়।

তবে মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বা পুরুষের চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ পর্যন্ত দুটি ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে। আশার কথা, এ দুটি ওষুধই এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে মিনক্সিডিল। মিনক্সিডিল হচ্ছে এক ধরনের লোশন বা সলিউশন যা সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে হয়। এ ওষুধটি হেয়ার ফলিকিউল স্টিমুলেট করে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অ্যাড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়ায় আরেকটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি হচ্ছে ফিনাস্টেরাইড। এটি এক ধরনের খাবার ওষুধ। দৈনিক এক মিলিগ্রাম করে এ ধরনের ওষুধ সেবন বাঞ্ছনীয়। এ ওষুধটি মিনক্সিডিল অপেক্ষা ভালো এবং চুলপড়া কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুল গজাতেও কার্যকর।

একটা কথা মনে রাখতে হবে, শুধু ওষুধ দিয়েই চুলপড়া সমস্যার সমাধান হবে না, চুলপড়া সমস্যার প্রকৃত কারণ জেনে চিকিৎসার পাশাপাশি যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। আর রোগীকে আস্থাশীল করতে না পারলে রোগীও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

তাই চুলপড়া সমস্যার চিকিৎসা যত বেশি জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি রোগীর আস্থা ও ধৈর্য। কারণ ধৈর্য ধরে যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, চর্মরোগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে