জয় এখনই নেতৃত্বে আসতে চান না: কাদের

0
120
ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এখনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে চান না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, এখানে জয়ের ইচ্ছার ব্যাপারও আছে। নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) এ নিয়ে কোনো কিছু বললে তিনি বলেন, ‘জয় তো আসতে চায় না’।

শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জয় রাজনীতিতে আসবেন কী-না, সেটা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিষয়। জয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপার তো আছেই। বারবারই নেত্রীকে জয়কে পরবর্তীকালের জন্য গ্রুমিং করার বিষয়টা বলে আসছি। জয় নিজেই দলের যে পদে যেভাবে আছেন, আপাতত সেভাবেই থাকতে চান।

আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় কাউন্সিলে দলের সম্পাদকমণ্ডলীতে নতুন কাদের দেখা যেতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, পুরনো মুখ না-কি নতুন- সেটা ডিসাইড করার মালিক দলীয় সভাপতি। দলের গঠনতন্ত্রেও তাকে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই এটা নির্ধারণ করবেন। আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউই অপরিহার্য নন।

তার নিজের পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেত্রী যেটা ইচ্ছা করবেন সেটাই হবে। তিনি পরিবর্তন চাইলে পরিবর্তন হবে। দলের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। হয়ত কারও কারও ইচ্ছা-আকাঙ্খা থাকতে পারে। সাধারণ সম্পাদক পদেও প্রার্থী থাকতে পারে, কোনো অসুবিধা নেই। আমি যদি মনে করি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ হতে পারবেন না, এটা তো ঠিক না।’

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিধি বাড়তে পারে কি-না- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কমিটির কলেবর বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা নেই। কমিটি ৮১ জনেরই থাকবে। আপাতত কমিটিতে পদ সংখ্যা বাড়ানোর কোনো ইচ্ছে নেত্রীর নেই। তবে বর্তমান কমিটিতে খালি থাকা সভাপতিমণ্ডলীর দু’টি এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের একটি পদ আগামী কাউন্সিলেই পূরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপিসহ সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যারা জোটের অংশ, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর বিদেশি প্রতিনিধিরা যেহেতু ‘মুজিব বর্ষ’ অনুষ্ঠানমালায় আসবেন, সেজন্য জাতীয় কাউন্সিলে তাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে না। তবে দেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনৈতিকদের দাওয়াত দেওয়া হবে। মুজিববর্ষের উদযাপন বর্ণাঢ্য হবে বলে এবারের জাতীয় কাউন্সিল তেমন কালারফুল হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটিগুলোর নেতৃত্বে দলীয় এমপিদের না রাখতে দলীয় সভাপতির নির্দেশনা রয়েছে। সংসদ সদস্যদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ পদে ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা এমপি হতে পারেননি, দলের নেতৃত্বও পাবেন না- এটা তো হয় না।

জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে চোখে পড়ার মত সংঘাত আওয়ামী লীগে এখনও হয়নি। তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলনে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে একটু চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি হয়েছে, এটা সত্য। যারা এটা করেছেন, তাদের ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সিরিয়াসলি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে