জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষী আবার রিমান্ডে

0
349
গ্রেপ্তার অবস্থায় জি কে শামীমের কয়েকজন দেহরক্ষী।

মাদক মামলায় প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষীকে পুনরায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাবের) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, এই মামলার আসামিরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করেছেন। চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই আসামিদের কাছে আর কোনো অস্ত্র আছে কি না, তা খুঁজে বের করার জন্য এই আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তবে আসামিদের আইনজীবী শওকত ওসমান আদালতের কাছে দাবি করেন, অস্ত্র মামলায় আসামিদের এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেখান থেকে কোনো কিছু উদ্ধার নেই। আসামিরা সবাই জি কে শামীমের কর্মচারী ছিলেন। যে অস্ত্র তা বৈধ অস্ত্র। তাঁরা কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। শুধু হয়রানি করার জন্য তাঁদের পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শওকত ওসমান আরও বলেন, আসামিদের নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নাকচ করে জামিন মঞ্জুর করা হোক।

আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে শামীমের সাত দেহরক্ষীকে পুনরায় তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। এর আগে গত সাত দেহরক্ষীকে অর্থপাচার মামলায় চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত।

সাত দেহরক্ষী হলেন নওগাঁর দেলোয়ার হোসেন, গোপালগঞ্জের মুরাদ হোসেন, বাড্ডার জাহিদুল ইসলাম, যশোরের শহিদুল ইসলাম, ভোলার কামাল হোসেন, নীলফামারীর সামসাদ হোসেন ও বাগেরহাটের আমিনুল ইসলাম।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতা শামীমসহ তাঁর সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয় বিদেশি মদ, টাকাসহ বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা। এ ঘটনায় শামীমসহ সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও অর্থ পাচারের তিনটি মামলা হয়।

অস্ত্র ও মাদক মামলায় পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর শামীমসহ তাঁর সাত দেহরক্ষীকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানার পুলিশ। আদালত শামীমকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। আর তাঁর সাত দেহরক্ষীকে অস্ত্র মামলায় চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে পুলিশ বলেছে, আসামি শামীম একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। সাত দেহরক্ষী শামীমের সব দুষ্কর্মের সহযোগী। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নামের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রকাশ্য বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে আসছিলেন। এর মাধ্যমে টেন্ডারবাজি, মাদক, জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল এবং বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে