জাহাজে করে পেঁয়াজ এলেও সেই অধরাই

0
186

উড়োজাহাজে উড়িয়ে আনার পর যখন দাম কমল না, তখন ভরসা ছিল জাহাজ। এখন জাহাজে করে পেঁয়াজ এসেছে, দেশি নতুন মৌসুমের পেঁয়াজও উঠছে। কিন্তু বাজারে দাম তেমন কমছে না।

কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন তাঁরাই, যাঁরা সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার সময় পাচ্ছেন। তা–ও শুধু বিভাগ ও জেলা শহরে। বঞ্চিত গ্রামের মানুষ।

ঢাকার খুচরা বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশি পুরোনো পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, চীনা ভালো পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও মিসরীয় পেঁয়াজ মানভেদে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দর ছিল।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, সেখানে আড়তে চীনা পেঁয়াজের দর বেশ কমেছে। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার কাছাকাছি। আর মিসরীয় পেঁয়াজ ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বেশির ভাগ সময় শ্যামবাজার থেকে এনে কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানে (৫ কেজি করে কেনা যায়) চীনা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিসরীয় পেঁয়াজ ১৩০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। খাঁটি দেশি পেঁয়াজের পাইকারি দর গতকাল বিকেলে ছিল কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজের দর বিক্রেতারা ২১০ থেকে ২২০ টাকা হাঁকছিলেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দাম কমেছে মূলত চীনা পেঁয়াজের। যেটা পাইকারি বাজারে ১২০ টাকা ছিল, সেটা এখন কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। উল্টো মিয়ানমার ও দেশি পেঁয়াজের দর বাড়তি।

ব্যবসায়ী আবদুল মাজেদ মনে করেন, জাহাজে আসার ফলে চীন ও মিসরীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তি। বিপরীতে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ আরও কমেছে। নতুন পেঁয়াজও ততটা ওঠেনি।
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিটি, মেঘনা ও এস আলম গ্রুপকে পেঁয়াজ আমদানির অনুরোধ জানায়। তারা উড়োজাহাজে কিছু পেঁয়াজ এনেছিল। বড় চালান এসেছে জাহাজে।

মেঘনার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ ইকবাল বলেন, তাঁদের ২ হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চলে আসবে। তাঁরা পেঁয়াজ কোনো মুনাফা ছাড়া টিসিবিকে দিচ্ছেন।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা জানান, ২ হাজার ৫৫৬ টনের একটি চালান আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা। এটাও তাঁরা কোনো লাভ ছাড়া টিসিবিকে দেবেন।

চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপ ১ হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ এনেছে। যার ৮০০ টনের মতো খালাস হয়েছে। বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, তাঁরা কিছু পেঁয়াজ পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। টিসিবিকে কিছু নেওয়ার জন্য বলেছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনে (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক সভায় বলেন, ১০ দিনের মধ্যে আমদানি করা বড় চালান এসে যাবে ও দেশি পেঁয়াজ উঠবে। সব মিলিয়ে সরবরাহ বাড়বে।

এদিকে বাজারে অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন হেরফের হয়নি। সবজির দাম কিছুটা কমেছে। যে ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা ছিল, সেটা এখন ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়। আকারেও একটু বড়।
বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির কেজিপ্রতি দর ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কারওয়ান বাজারের আড়তের ব্যবসায়ী রফিকুল হাসান বলেন, সরবরাহ বাড়ছে। সামনে আরও বাড়লে দাম কমবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে