জাবি শিক্ষকের করোনা ‘কনট্যাক্ট ট্রেসিং’ অ্যাপ

0
117
‘কনট্যাক্ট ট্রেসিং’ অ্যাপ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ‘কোভিড ফাইন্ডার’ নামে বিশেষ ধরনের অ্যাপ (কনট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ) বানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও সাবেক এক শিক্ষার্থী। অ্যাপ ব্যবহারকারী গত ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন কি না, এই অ্যাপ তা জানিয়ে দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান ও ওই ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী রাজন হোসেন যৌথভাবে অ্যাপটি বানান। ওয়াহিদুজ্জামান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ ফেলো। রাজন হোসেন মন্সটারল্যাব বাংলাদেশে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজ হচ্ছে রোগীর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া। ‘কোভিড ফাইন্ডার’ দিয়ে এই কাজটি খুব সহজেই করা যাবে। এ ধরনের কনট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ ব্যবহার করে ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় সফলতা দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

বাংলাদেশে অ্যাপটি চালু করতে সরকারের সহযোগিতা চান ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশেও এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে সুবিধা পাওয়া সম্ভব। আমরা অ্যাপটির কাজ শেষ করেছি। প্রয়োজন হলে আরও নতুন ফিচার যোগ করতে পারব। তবে অ্যাপটি চালু করার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ওয়াহিদুজ্জামান আরও বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পেলে সার্ভারসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। আমরা চেষ্টা করছি যেন শুধু মুঠোফোন নম্বর দিয়ে অ্যাপ ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন, গত ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে তিনি এসেছেন কি না।’

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের

‘কোভিড ফাইন্ডার’

দ্রুত টেস্ট করানো যাবে, আক্রান্ত নন, এমন ব্যক্তিদের টেস্টের পরিমাণ কমে যাবে এবং করোনার লক্ষণ দেখার আগেই অ্যাপ ব্যবহারকারী নিজের সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

‘কোভিড ফাইন্ডার’ যেভাবে কাজ করে
অ্যাপটি ইন্সটল করার পর নাম ও ফোন নম্বর দিয়ে লগইন করতে হবে। এই নাম ও ফোন নম্বরের জন্য অ্যাপ একটি বিশেষ কোড (Universally Unique Identifier-UUID) তৈরি করে। অ্যাপটি শুধু ওই বিশেষ কোড সংগ্রহ করবে এবং নাম, ফোন নম্বর ও কোডসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্ভারে পাঠিয়ে দেবে। এই সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের হাতে থাকতে পারে।
ব্লুটুথ টেকনোলজি ব্যবহার করে এই কাজ সম্পন্ন হবে। নির্দিষ্ট অ্যাপে এই ব্যবহারকারীর তথ্য ২১ দিন পর্যন্ত থাকবে এবং ২১ দিনের পুরোনো তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে। ব্যবহারকারীকে শুধু জানানো হবে, গত কয়েক দিনের মধ্যে আপনি করোনা সংক্রমিত একজন বা একাধিক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে