জাবি ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীকে মারধরের অভিযোগ

0
209
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি)।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুর্নীতি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম।

অভিযোগকারী সোহায়েব ইবনে মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র।

অভিযুক্ত সাইফুর রহমান

অভিযুক্ত সাইফুর রহমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আল বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে জানা গেছে।

এর আগে অভিযুক্ত সাইফুর রহমানকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় হাতেনাতে ধরেন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এ ঘটনায় সাইফুর রহমান সহ ৪৭তম ব্যাচের ৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগকারী সোহায়েব জানান, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র ব্যানারে মিছিলে তিনি অংশগ্রহণ করনে। মিছিল শেষে তিনি হলে ফিরলে রাত ১২টার দিকে অভিযুক্ত সাইফুর রহমান মিছিলে যোগ দেয়ার বিষয়ে জানতে চান। এসময় তিনি বলেন ‘দাবিগুলো যৌক্তিক তাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’

তিনি জানান, ‘তিনি আন্দোলনের তিনটা দাবির কথা বলেন। এর মধ্যে একটা দাবি ছিল প্রকল্পের টাকার দুর্নীতির বিচার করা। এসময় সাইফুর বলেন, দুর্নীতি হলে দুর্নীতির তদন্ত হবে। ‘তুই কেন মিছিলে গেছিস?’ এ সময় সাইফুর পানিভর্তি বোতল তার বুকে ছুঁড়ে মারেন। পরে সাইফুর তার বুকে আঘাত করেন এবং কলার টেনে ধরেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাইফুর রহমান সরকারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আল বেরুনী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই হলে জরুরি মিটিং ডেকেছি। রাতে মিটিংয়ের পর সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘ঘটনা জেনেছি। যেহেতু এটা হলের আভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই হল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবে। হল প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করবো।’

এদিকে, গত ২৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলমান আন্দোলন ‘বন্ধ করতে’ ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এ সময় প্রয়োজনে আন্দোলন বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের ‘মারধর’ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে ঘনিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

এবিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘এ আন্দোলন বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের সঙ্গে মিটিং করে। যেখানে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি। যার ফলশ্রতিতে বিভিন্ন হলে নির্যাতন ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, হুমকি দিয়ে কোন যৌক্তিক আন্দোলন দমাতে পারবেন না।’

তবে বিশেষ নির্দেশনার কথা অস্বীকার করে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘আমরা হলের সিট সমস্যা নিরসনের লক্ষে আলোচনা করার জন্য ছাত্রলীগের সঙ্গে বসেছিলাম। অন্য কোন কারণে নয় কিংবা তাদেরকে কোন বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে