জাবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪

0
264
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ভবনের সামনে সোমবার বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ রফিক-জব্বার হলের ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাব্বির হোসেন ও কামরুল হাসান, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের জোবায়ের আহমেদ এবং বাংলা বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের মো. রকিব। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক–জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাব্বির হোসেনের মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক রিজওয়ানুর রহমান। সাব্বিরকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন আহত ছাত্রলীগের কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সপ্তম দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলছিল। এদিন বেলা দুইটার দিকে একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সিএসই ভবনের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন সাব্বির হোসেন। এই ভবনের সামনে টাকার বিনিময়ে ব্যাগ, মুঠোফোন ইত্যাদি জমা রাখার জন্য টেবিল নিয়ে বসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের কর্মী জাকির হোসেন (ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার হলে মুঠোফোন ও ব্যাগ ‍নিয়ে প্রবেশ নিষেধ)। তিনি ওই ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে বলেন, মুঠোফোন নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে সমস্যা হতে পারে। এ নিয়ে জাকির ও সাব্বিরের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। এরপর তাঁদের দুজনের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হলে সহকারী প্রক্টর রনি হুসাইন তাঁদের নিরস্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর দুই হলের ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী সেখানে যান। তাঁদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের কর্মী রিফাত ও মুন্না কাচের বোতল দিয়ে আঘাত করলে সাব্বির হোসেনের মাথা কেটে রক্ত পড়া শুরু হয়। পরে আহত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

রিফাত ও ‍মুন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি সিএসই ভবনের সামনে বসা ছিলাম। এ সময় দুজন আমাদের সামনে এসে জিজ্ঞেস করেন, মোবাইল নিয়ে পরীক্ষার হলে গেলে কোনো সমস্যা হবে কি না। আমি বলি, সমস্যা হবে। এ নিয়ে সাব্বির হোসেন বাজে মন্তব্য করলে আমি তাঁকে নিষেধ করেছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর আরও সাত থেকে আটজন এসে আমাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মারামারি বাধে।’

আহত জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘সাব্বির ভাই একজন ভর্তি–ইচ্ছুককে নিয়ে পরীক্ষার হলের দিকে যেতে থাকলে জাকির ওই ভর্তি–ইচ্ছুকের মোবাইল জমা রাখার জন্য জবরদস্তি করে। এর প্রতিবাদ করলে সাব্বির ভাইকে গালাগালি করে জাকির। পরে আমরা পাঁচ থেকে ছয়জন গিয়ে গালাগালির কারণ জানতে চাই। এ সময় বঙ্গবন্ধু হলের ১০ থেকে ১২ জন আমাদের ওপর হামলা করে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘আমরা আজকে সন্ধ্যায় শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভা ডেকেছি। যথাযথ প্রমাণ ও উপস্থিত সহকারী প্রক্টরদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে