জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু

0
387
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

প্রতিবছরের মতো এবারও সেপ্টেম্বরের তৃতীয় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিয়মিত বার্ষিক অধিবেশন।

৭৪তম এই অধিবেশনে শতাধিক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রয়েছেন। আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তিনি আসছেন না। আর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়েরও আসার সম্ভাবনা নেই।

অধিবেশনের প্রথম সাত দিন অতিবাহিত হবে ২১ জন উপসভাপতির নির্বাচন ও বিভিন্ন পদ্ধতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে। ইতিমধ্যেই নাইজেরিয়ার তিজ্জানি মোহাম্মদ-বান্ডে চলতি অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অধিবেশনের মূল আকর্ষণ সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। চলবে দুই সপ্তাহ। বিতর্ক শুরু হওয়ার আগের দিন, অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে বসবে বৈশ্বিক জলবায়ু প্রশ্নে একটি শীর্ষ বৈঠক। একই দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আমন্ত্রণে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রশ্নে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সাধারণ বিতর্ক চলাকালে আরও বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে বলে জাতিসংঘ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই বাৎসরিক বিতর্ককে অনেকে ‘কথার দোকান’ নামে অভিহিত করেন। বিভিন্ন দেশের এত সংখ্যক নেতার নিয়মিত সমাবেশ অন্য কোথাও ঘটে না। ফলে সারা বিশ্বের নজর থাকে এই দুই সপ্তাহের বিতর্কে কে কী বলেন সেদিকে। এই বিতর্কের কূটনৈতিক গুরুত্ব যতই থাকুক না কেন, তার কোনো বাস্তব উপযোগিতা নেই। বিতর্কের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। বছর শেষে ডিসেম্বরে যখন দেড় শ বা তার চেয়েও অধিক বিষয়ের ওপর প্রস্তাব গৃহীত হয়, তার বাস্তবায়নের কোনো বাধ্যবাধকতা বা প্রক্রিয়া না থাকায় কেউ সে ব্যাপারে আদৌ মাথা ঘামায় না। সে কারণেই ‘কথার দোকান’ নামকরণ।

সাধারণ বিতর্কের দুই সপ্তাহ অধিকাংশ বিশ্ব নেতারা যাঁর যাঁর দেশের দর্শক-শ্রোতাদের কথা মনে রেখেই ভাষণ দেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা যখন ভাষণ দেন, তাঁর নিজ দূতাবাসের প্রতিনিধি ও দর্শক গ্যালারিতে আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়া পুরো হলঘর কার্যত শূন্য।

গতবারের মতো এবারও সবার নজর থাকবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর। গত বছর তিনি ঘোষণা করেছিলেন, দুই বছরের কম সময় ক্ষমতায় থাকলেও ইতিমধ্যে যে সাফল্য তিনি অর্জন করেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে তা অর্জিত হয়নি। ট্রাম্পের সে কথায় সাধারণ পরিষদের হলঘরে হাসির রোল উঠেছিল। সবাই অপেক্ষায় থাকবেন এবার তিনি কী বলেন।

ট্রাম্প ছাড়াও এ বছরের সাধারণ বিতর্কে ‘স্ট্রং ম্যান’ হিসেবে পরিচিত অনেকেই আসছেন বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ সচিবালয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের এরদোয়ান, ব্রাজিলের বলসানেরো, পোল্যান্ডের আন্দ্রেই দুদা, মিসরের আল সিসি ও সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান। রাশিয়ার পুতিন জানিয়েছেন, তিনি আসছেন না। চীনের সি চিন পিংয়েরও আসার সম্ভাবনা নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.