জলবায়ু পরিবর্তনে আধুনিক ভবনগুলোও দায়ী: বিল গেটস

0
134
বিল গেটস। ছবি: রয়টার্স

মানুষের তৃতীয় মৌলিক চাহিদা বাসস্থান। নিরাপত্তা ও বৈরী আবহাওয়া থেকে বাঁচতে মানুষ গভীর ভালোবাসায় নিজের বাড়ি নির্মাণ করে। আধুনিক নগরায়ণের যুগে নানা রঙে ও শৈলীতে অল্প জায়গায় অনেক মানুষের বসবাসের জন্য গড়ে উঠছে বিশাল সব ভবন। তবে এসব ভবন জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। অন্তত বিল গেটস তেমনটি মনে করেন।

‘বিল্ডিংস আর ব্যাড ফর ক্লাইমেট’ শিরোনামে নিজের লিংক্‌ডইন পাতায় একটি পোস্টে দিয়েছেন গেটস। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী গেটস মনে করেন, ভবন তৈরির বর্তমান প্রক্রিয়া ও পরিচালনা ব্যবস্থা ‘গ্রিন হাউস গ্যাস’ নিঃশরণে ভূমিকা রেখে চলেছে।

পোস্টে গেটস লিখেছেন, ‘বিশ্বে জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নগরায়ণ বাড়ছে। এতে একের পর এক গড়ে উঠছে ভবন। এক পূর্বানুমান অনুসারে, ২০৬০ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন বর্গফুটের সমান জায়গা জুড়ে ভবন গড়ে উঠবে।

বিল গেটস লিখেছেন, ‘এটা একই সঙ্গে ভালো ও খারাপ খবর। ভালো খবর কারণ নগরে বাস করলে মানুষ উন্নত জীবনের স্বাদ পায়। সন্তানদের ভালো স্কুলে পাঠাতে পারে, উন্নত চিকিৎসা সেবা ও চাকরিতে ঢোকার সুযোগ পায়। খারাপ খবর হলো, নগরায়ণের জন্য দরকারি ভবন জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।

গেটস ওই পোস্টে লিখেছেন, ভবন দুই ভাবে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। প্রথমত, ভবন নির্মাণ ধাপে প্রয়োজন হয় কংক্রিট ও স্টিল। আর এ দুইটি উপাদান তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এমনকি এই দুটি উপাদান বিশ্বব্যাপী মোট ‘গ্রিন হাউস গ্যাসের’ ১০ শতাংশ উৎপন্ন করে থাকে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, মানুষের হাতে এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যার মাধ্যমে গ্রিন হাউস গ্রাস নিঃশরণ ছাড়াই এই দুটি উপাদান তৈরি করা যায়।

অন্য যেভাবে ভবনগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে তাহলে এগুলোর পরিচালনা ব্যবস্থা। প্রতিটি ভবন চালু রাখতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় নিঃশরণ হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড। ভবনগুলোতে বৈদ্যুতিক বাতি ও টেলিভিশনের পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে। বিল গেটস লিখেছেন, প্রত্যেকটি সাধারণ আমেরিকার নাগরিকের বাড়িতে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্র হলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র।

নগরায়ণের যুগে নানা রঙে ও শৈলীতে বহুতল ভবন গড়ে তুলছে মানুষ। তবে এ সব ভবন জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। ছবি: রয়টার্স

গেটসের ওই লেখায় উঠে এসেছে, বিশ্বব্যাপী এখন প্রায় ১.৬ বিলিয়ন (এক শত ৬০ কোটি) শীতাতপ যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। আর পৃথিবীতে যত মানুষ বাড়ছে এবং উষ্ণ হচ্ছে ততই এই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রায় ৫ বিলিয়ন (পাঁচ শত কোটি) শীতাতপ যন্ত্র ব্যবহৃত হবে। আর এই যন্ত্রের ব্যবহার একটি দুষ্টচক্র তৈরি করবে। পৃথিবী যত উষ্ম হবে ততই শীতাতপ যন্ত্রের ব্যবহার বাড়বে। বাড়বে বিদ্যুতের ব্যবহার। ফলে বেড়ে যাবে পৃথিবীর উষ্ণতা। আর এ জন্য অতি দ্রুত কার্বন মুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।

তবে শীতাতপ যন্ত্রের বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার একমাত্র ঝুঁকি নয়। শীতাতপ যন্ত্র কাজ করার জন্য এক ধরনের গ্যাস ব্যবহার করে যাকে বলা হয় এফ-গ্যাস। আর এই শ্রেণির গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকেও জলবায়ুকে বেশি উষ্ণ করে।

ভবন সম্পর্কিত এসব উদ্বেগের পাশাপাশি কীভাবে তা কমানো যায় সেটারও একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিল গেটস। তিনি এই ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নিতে বলেছেন। প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষকে এগিয়ে আসতে বলেছেন। সরকার এ জন্য যুগোপযোগী ‘ভবন নির্মাণ বিধিমালা’ তৈরি করতে পরে বলে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ে ভবন নির্মাণ উপাদান প্রস্তুতকরণ প্রতিষ্ঠান উৎপাদন পর্যায়ে কার্বন নিঃশরণ কমানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পরে বলে উল্লেখ করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে