ছোট্ট তাসফিয়ার শরীরে এ কেমন রোগ।

0
220
বিরল রোগে আক্রান্ত তাসফিয়া জাহান মনিরা।

ফুটফুটে শিশুটি দেখলে যে কারও মায়া লাগবে। সুন্দর মুখশ্রী দেখলে কারও বোঝার উপায় নেই শিশুটি ভয়ঙ্কর এক রোগে আক্রান্ত। শরীর থেকে জামা সরালেই সবাই আঁতকে উঠবেন; অদৃশ্য বেদনায় কুঁকড়ে যাবেন। অথচ শিশুটি সত্যিকারের শারীরিক ও মানসিক বেদনা নিয়ে বড় হচ্ছে। কারণ তার শরীরজুড়ে পশুর মতো ঘন পশম। দিন যত গড়াচ্ছে, পশমগুলোও বাড়ছে। পাশাপাশি অসহ্য যন্ত্রণা। বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুটির নাম তাসফিয়া জাহান মনিরা। বয়স মাত্র ৩ বছর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌর এলাকার বন বিভাগের পাশে গোডাউনপাড়া এলাকায় তাদের বাস। বাবা মাসুদুজ্জামান মামুন সামান্য দিনমজুর। মামুন জানান, জন্মের পর থেকেই তাসফিয়ার শরীরে লম্বা পশমে আবৃত হতে থাকে। চিকিৎসা যে করাবেন, সেই সাধ্য নেই তাদের।

শিশু তাসফিয়ার মা তানজিলা খাতুন জানান, মেয়ের বয়স যখন ছয় দিন, তখন তার শরীরে এ সমস্যাটি প্রথম ধরা পড়ে। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন হাসপাতালের চিকিৎসকরা একটি মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হন- এটি একটি বিরল চর্মরোগ। এ রোগের উৎপত্তি শিশুটির পিঠে থাকা ছোট্ট একটি টিউমার থেকে। সে সময় চিকিৎসকরা তাসফিয়ার বয়স ৩-৪ বছর হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তার বয়স সাড়ে ৩ বছর। সমস্ত শরীর তো পশমে ছেয়ে গেছেই, তার ওপর মুখ, হাতের তালুতে কালসিটে দাগও ছড়িয়ে পড়ছে।

তানজিলা খাতুন জনান, গরমকালে তাসফিয়ার শরীর থেকে আগুনের মতো তাপ বের হতে থাকে। দিনে তিন-চারবার গোসল করাতে হয়। ভেজা কাপড় পরিয়ে দিন-রাত ফ্যানের নিচে রাখতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখার বাতাস করতে হয়। এভাবে না রাখলে তাসফিয়া ছটফট করতে থাকে। তিনি জানান, তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। স্বামী সামান্য দিনমজুর। সহায়-সম্পত্তিও নেই যে তা বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করাবেন। বাধ্য হয়ে তারা হোমিও চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু তার অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি মেয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চেয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে তারা এখনও দেখেননি। ঘটনা শুনে যা মনে হয়েছে, নাচোলে এমন রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে