ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, পালাতে গিয়ে তিন কলেজছাত্রের মৃত্যু

0
61
তৌহিদুল ইসলাম, মুরাদ বিশ্বাস ও সমরেশ বিশ্বাস, ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শামীমুল ইসলাম জানান, দ্রুতগতিতে চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে ধাক্কা দেন। ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত সজীবুল ইসলামকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত সজীবুল ইসলামকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিভিএম ডিগ্রির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে দুটি পক্ষ তৈরি হয়। কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফাহিম আহমেদের সঙ্গে বর্তমান জিএস ও ছাত্রলীগ কর্মী সজীবুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সজীবসহ বেশ কয়েকজন বিরোধের বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাগর হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে ঝিনাইদহ শহরে যান। সেখান থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাঁরা রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে জোহান পার্কের সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা করেন।

আহত ছাত্রলীগ কর্মী ও কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস সজীবুল ইসলাম বলেন, জোহান পার্ক এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে প্রতিপক্ষরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষরা মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের তাড়া করে। তিনি বাঁচার জন্য রাস্তার ধারের একটি পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁরা সেখান থেকে তাঁকে কুপিয়ে আহত করেন। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় আর কিছুই বলতে পারেননি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, তাড়া খেয়ে সজীবুল ইসলামসহ দুজন ঘটনাস্থলে আটকা পড়েন। অপর দুটি মোটরসাইকেলে থাকা শিক্ষার্থীরা দ্রুত পালানো চেষ্টা করেন। এ সময় ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের ১৮ মাইল নামক স্থানে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুমড়েমুচড়ে যায় তাঁদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি। ক্যাম্পাসের ডিভিএম ডিগ্রির আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধাওয়া খেয়ে বেঁচে যাওয়া দুই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান বলেন, বিষয়টি তাঁরা খোঁজ নিচ্ছেন। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত আর কাদের কারণে তিন ছাত্রের মৃত্যু হলো, তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. সোহেল রানা বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনার জেরে সজীবের ওপর হামলা হয়। এ সময় পালাতে গিয়ে ওই তিনজন দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাঁদের খুঁজতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.