ছাত্রলীগের ‘অন্যায় দাবি’ না মানায় অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার অভিযোগ

0
236

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের ভেতরেই এই ঘটনা ঘটে। অধ্যক্ষের অভিযোগ, অন্যায় দাবি না মানায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা এই কাজ করেছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, অন্তত ১০ জন তরুণ অধ্যক্ষকে দ্রুতগতিতে পুকুরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ তাঁর হাত ধরে টানছিলেন, আবার কেউ পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন। এরপর তাঁকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার ব্যাপারে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের ছেলেরা আমার কাছে অন্যায় দাবি নিয়ে আসত। তাদের দাবিগুলো মানার মতো না। দাবি না মানার কারণে তাঁরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকায় দুজন ছাত্রের ফরম পূরণ হয়নি। তাঁদের ফরম পূরণ করানোর জন্য শনিবার সকালে কয়েকজন আমার কাছে আসে। আমি তাঁদের বিভাগীয় প্রধানের কাছে যেতে বললে আমার সামনেই অশালীন মন্তব্য করে তাঁরা। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু কথা বলে তাঁরা রাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে যায়। দুপুরে নামাজ পড়ে অফিসে যাওয়ার সময় একজন আমার পথ আটকে পুকুরের দিকে যেতে বলে। আমি যেতে না চাইলে তাঁরা আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর তাঁরা পালিয়ে যায়।’

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘যেখানে আমাকে ফেলেছে সেখানে পানির গভীরতা ছিল ১২ থেকে ১৫ ফুট। সাঁতার জানতাম বলে আমি বেঁচে গেছি। সাঁতার না জানলে হয়তো আজই মারা যেতাম।’ এ ঘটনায় মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের ছেলেরা জড়িত কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গোলাম মোস্তাফা বলেন, খবর পেয়ে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.