চীনা ঠিকাদারের দায় মিলল তদন্তে, চুক্তি বাতিলের চিন্তা

0
38
রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বিআরটি ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ পাঁচজন নিহত

নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ঠিকাদারের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে সড়ক পরিবহন সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরীও জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঠিকাদারের দায় পাওয়া গেছে। চুক্তি বাতিল করে চীনা ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।

গত সোমবার রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দিন মোড়ে ক্রেন কাত হয়ে বিআরটির ভায়াডাক্টের (উড়াল অংশ) বক্সগার্ডার প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে পাঁচজন নিহত হন।

মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উত্তরের মেয়র বলেছেন, নির্মাণ প্রকল্পে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেই কাজ চালাতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো প্রকল্পের কাজ চলতে দেওয়া হবে না।

আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ব্যস্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা দিয়ে ভারি গার্ডার তুলতে হবে। ক্রেন দিয়ে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই উদ্ধারে আরেকটি ক্রেন প্রস্তুত রাখতে হবে। দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা। বিআরটি এগুলোর কিছুই করেনি। আগামী বৃস্পতিবার বিআরটি প্রকল্পের নিরাপত্তা ইস্যুতে বৈঠক হবে।

এদিকে আজ বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বলেছেন, তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গেঝুবা গ্রুপ কোম্পানিকে (সিজিজিসি) দায়ী করেছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে তাদের দায় পাওয়া গেলে, শুধু শুধু জরিমানা নয়, কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি আর বাংলাদেশে কাজ করতে পারবে না।

আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ছুটির দিনে ঠিকাদারের কাজ করার কথা না। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করছিল। নিয়মানুযায়ী আগের দিনই জানাতে হয় কোথায় কাজ হবে, কত লোক কাজ করবে, কতগুলো ক্রেন থাকবে। তা পুলিশকে জানানো হয়।

প্রকল্প তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি পরামর্শকদের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সচিব। তিনি জানান, পলাতক ক্রেন চালককে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সচিব বলেছেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। ঠিকাদারের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা চাওয়া হবে। তা পরামর্শক অনুমোদন না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতার বলেছেন, অনেকবারই ঠিকাদার নিরাপত্তার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। তা ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসকে জানানো হবে। বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন মূল্যবান। এখানে কোনো ছাড় নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.