চিকিৎসকের পদ ২২৭, আছেন ৫৭ জন

0
146
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সারি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তবেই মিলছে সেবা। গত শনিবার দুপুরে তোলা ছবি।

সকাল নয়টায় নিজের চার মাসের মেয়েকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে এসেছিলেন খাদিজা বেগম। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের নাচোল থেকে এসে টিকিটের জন্যই কাউন্টারের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঘণ্টাখানেক। এরপর সেবা নিতে লাইনে দাঁড়ান চিকিৎসকের কক্ষের সামনে। দুপুর ১২টার দিকেও তাঁর সামনে ১০ থেকে ১৫ জন ছিল। কোলে থাকা অসুস্থ শিশু গরমের মধ্যে হাঁসফাঁস করছিল। কিন্তু সেবা নিতে খাদিজার অপেক্ষা তখনো শেষ হচ্ছিল না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোগীদের টিকিট দিতে কাউন্টারে বসেন দুজন। আর এক শ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসক মাত্র ১৫ জন। জনবলের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশও নোংরা। ময়লা পড়ে আছে যত্রতত্র। সদর হাসপাতালেরই যখন এমন দশা, তখন সেবা নিতে এসে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। জনবলের অভাবে ব্যবহার হয় না যন্ত্রপাতিও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকদের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২২৭। কিন্তু কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৭ জন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৭ জন চিকিৎসকের জায়গায় কর্মরত আছেন ১১ জন। এ ছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৮ জনের জায়গায় ১১ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জনের মধ্যে ৯ জন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জনের মধ্যে ৬ জন কর্মরত আছেন।

সবচেয়ে বেশি চিকিৎসক–সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সদর হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠার সময় হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার। চিকিৎসক ছিলেন ২১ জন। ২০০৩ সালে ১০০ শয্যায় আর এক বছর আগে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক বাড়েনি। বরং কয়েকজন চিকিৎসক চলে যাওয়ায় বর্তমানে ১৫ জন কর্মরত আছেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিম সরকার বলেন, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে দেড় হাজারেরও বেশি রোগী। হাসপাতালে থাকা জনবল দিয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।

গত শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে শিশু কোলে মায়েদের লম্বা লাইন দেখা যায়। হাসপাতালের রেজিস্টার দেখে জানা গেল, বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন রোগী। অন্তর্বিভাগে ১০০ শয্যার বিপরীতে দেড় শ থেকে দুই শ রোগী ভর্তি থাকে। ফাঁকা আছে চক্ষু, স্ত্রীরোগ, নাক-কান-গলা ও শিশুরোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞের পদ।

বহির্বিভাগে নারীদের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়নের চর চাটাইডুবি গ্রামের খালেদা বেগম। বলছিলেন, সেবা নিতে এসে ভোগান্তিই বেশি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতালে এলে সারা দিনে আর অন্য কোনো কাজ করা যায় না।

হাসপাতালের জুনিয়র শিশুবিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান বলছিলেন, অন্তর্বিভাগে ভর্তি রোগী দেখার পর বহির্বিভাগে আসতে হয়। প্রতিদিন ১৭০ থেকে ২০০ রোগী দেখতে হয়।

সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, অনেক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলেও চিকিৎসক বাড়েনি। কয়েক বছর ধরে নতুন করে নিয়োগও দেওয়া হয়নি কাউকে। নতুন চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান হবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে