চাকরি প্রত্যাখ্যান সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের

0
310
মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন

মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলার ঘটনায় প্রশাসনের দেওয়া রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ফেরত দেওয়ার একদিন পর দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের দেওয়া তার সন্তানের চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পরিবারটি। এদিকে মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলার ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে বিভাগীয় প্রশাসন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘এসি ল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি ছেলেকে চাকরিচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে। তাই মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা হিসেবে তাদের সালাম/স্যালুট আমার শেষযাত্রায় যেন না হয়।’ দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন এমন একটি চিঠি লিখে যাওয়ার দু’দিন পর মারা যান। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় যখন দিনাজপুর তোলপাড়, তখনই ওই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে জেলা প্রশাসক ডেকে নিয়ে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে ছেলে নুর ইসলামকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানান। কিন্তু সেই চাকরি নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন পরিবারের সদস্যরা।

নুর ইসলামের ভাই বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের দিন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাবাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। সেই ঘটনার পর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর দু’দিন পর তিনি মারা যান।’

এ মুক্তিযোদ্ধার আরেক ছেলে নুরুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্মানটুকু না নিয়ে বাবা বিদায় নিয়েছেন। এই চাকরি আমরা কেন নেব? জেলা প্রশাসক এসেছেন, তাকে সম্মান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার দেওয়া চাকরি তো আমরা নিতে পারি না।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়া দাফনের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন মরহুম ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে যান। তার সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লোকমান হাকিম, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল।

এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সরকার সচেতন। মরহুম মুক্তিযোদ্ধার লিখিত অসিয়তের ভিত্তিতে আমি ঘটনা তদন্তে এসেছি। ভিকটিম ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েছি। নুর ইসলামকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে