চাঁদের ৬১ কোটি একর জমি বিক্রি

0
60
চাঁদ

যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যবসায়ী কোম্পানি খুলে প্রায় ৪০ বছর ধরে চাঁদের জমি বিক্রি করছেন। এরই মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ গ্রাহকের কাছে ৬১ কোটির বেশি একর জমি বিক্রিও করে ফেলেছেন তিনি। প্রতি একরের দাম নিয়েছেন দুই হাজার টাকার কাছাকাছি। জমির মালিকানা আইনত বৈধ। আছে দলিলও। এমনকি মৌজা-পর্চার মতো আইনি নথিও আছে।

জমি কিনলেও তা চোখে দেখার সুযোগ প্রায় নেই। ফলে দলিলের সঙ্গে ক্রেতাদের একটি করে চাঁদের মানচিত্র দেন হোপ নামে ওই ব্যবসায়ী, যাতে গ্রাহকরা বুঝতে পারেন ঠিক কোন জায়গায় জমি কিনলেন।

লুনার অ্যাম্বাসি নামে একটি কোম্পানি খুলে চাঁদের জমি বিক্রি করছেন হোপ। তার গ্রাহক তালিকায় তারকা থেকে সাধারণ চাকরিজীবী এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরাও আছেন। হোপের দাবি, ৬৭৫ জন নামি তারকা জমি কিনেছেন তার কাছ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, জিমি কার্টার ও রোনাল্ড রিগ্যানও তার গ্রাহক তালিকায় রয়েছেন। জমির দাম রাখা হয়েছে সাধারণের আয়ত্তের মধ্যেই। প্রতি একর ২৪ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে জমি। বেশি দামের জমিও আছে।

হোপের কোম্পানি লুনার অ্যাম্বাসি চাঁদে তার জায়গাজমির দেখভাল করে। হোপ নিজেই সংস্থার সিইও। যদিও এই সিইওর অর্থ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার নয়। এর অর্থ সেলেশ্চিয়াল এক্সিকিউটিভ অফিসার অর্থাৎ মহাজাগতিক নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে নিজেকে ‘চাঁদের মালিক’ বলতেই বেশি পছন্দ করেন হোপ। চাঁদের জমির ব্যবসার বুদ্ধি এবং রসদ দুই-ই হোপ পেয়েছিলেন তার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞানের দৌলতে।

এ ব্যাপারে ১৯৬৭ সালে জাতিসংঘের আনা একটি প্রস্তাবের ফাঁকফোকরই সাহায্য করেছিল হোপকে। ওই প্রস্তাবে বলা আছে, সৌরজগতের মধ্যে থাকা মহাজাগতিক বস্তু বিশ্বের কোনো দেশ বা সরকার দাবি করতে পারবে না, মালিকানা বা আইনি স্বত্বও নয়। তবে তাতে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ওই বিধিনিষেধ নেই। এই সুযোগ নিয়ে গত শতাব্দীর ৮০-এর দশকে চাঁদের মালিকানা দাবি করে জাতিসংঘে চিঠি লেখেন হোপ। তবে সেই চিঠির কোনো উত্তর আজও পাননি তিনি। হোপ ধরে নিয়েছেন, জাতিসংঘের মৌনতাই তার জন্য সম্মতি। সেই থেকে শুরু। ১৯৮০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চুটিয়ে চাঁদের জমি বিক্রি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে চলেছেন হোপ। সূত্র: আনন্দবাজার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে