চাঁদপুরে ইমামের কক্ষে ৩ ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে যা বলল পুলিশ

0
209
রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির ।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে ইমামের পুত্রসহ তিন মাদ্রাসা ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কিছু আলমত জব্দ করা হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত করে কিছুই বলতে পারছে না পুলিশ। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, শ্বাস নিতে না পারায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় মতলব থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা, ওই কক্ষে যে আইপিএসের ব্যাটারি ছিল সে ব্যাটারি থেকে কোনো কারণে ক্যামিক্যাল রিয়েকশনের ফলে ওখানে যদি হাইড্রোজেন সালফাইড বা অন্য কোন ক্যামিকেলের উৎপাদন বা কার্বোনডাই অক্সাইড উৎপাদন বেশি হয়ে যায়- সেক্ষেত্রে একটি রুমের ভেতর অক্সিজেনের ডেফিসেন্সি হতে পারে। অক্সিজেনের ডেফিসেন্সি হলে হঠাৎ করে ব্রেইন অচেতন হয়ে পড়তে পারে। তবে এটি আমাদের প্রাথমিক ধারণা। সিআইডিও আমাদের এমন একটি প্রাথমিক ধারণা দিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘অবস্থার দৃষ্টিতে দেখে যেটি মনে হচ্ছে- ওখানে কোন স্যাফোলেশন হতে পারে। এখন স্যাফোলেশন কিভাবে হয়েছে? বা হওয়া সম্ভব কি না সেটি দেখার জন্য আমাদের সিআইডি টিম এসেছিল। বিভিন্ন স্যাম্পল কালেক্ট করা হয়েছে। বাতাস সংগ্রহ করা হয়েছে, ক্যামিকেল এনালাইসিস করা হবে। তবে আমরা যদি কোন হাইফোথিসিস দাঁড় করাই, দেখা যাবে এ ঘটনা সম্ভব।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘সিআইডি থেকে ক্রাইম সিন এ্যানালাইসিস টিম এবং ফরেনসিক টিম এসে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। তারা ঢাকায় গিয়ে সেগুলো পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেবে। এছাড়া পোস্টমর্টেম হয়েছে। সেখান থেকে যে যে পার্সগুলো কালেক্ট করা দরকার আমরা সে জিনিসগুলো নিয়ে ক্যামিক্যাল এক্সাম করবো। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসার পর সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যাবে।’

বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই কাজ করছে জানিয়ে এসপি বলেন, ‘একটি রুমে ওরা তিনজন ছিল এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। তাই বাইরে থেকে কোন কিছু প্রবেশ করার সুযোগ ছিল না। সেক্ষেত্রে যা হয়েছে ভেতরেই হয়েছে এবং তিনজনকে অবচেতন অবস্থায় ওই কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একটি ঘটনা ঘটলে বিভিন্ন রকমের কথা আসে। তারা যদি এসিড পানি পান করতো তাহলে তাদের মুখে দাগ থাকতো, জিহ্বা পুড়ে যেত। যদি কোন বিষক্রিয়া হতো তাহলে তাদের শরীরে একটি পরিবর্তন আসতো। কিন্তু মনে হচ্ছে তারা ঘুমিয়ে আছে। শরীরের কোথাও কোনো দাগ নেই।’

এদিকে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার আইচ জানিয়েছেন, তিন ছাত্রের মরদেহ যে কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে তিনটি ব্যাটারি ছিল। যেগুলো দিয়ে আইপিএস এবং স্যোলার ব্যবহার করা হতো।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মতলবের পূর্ব কলাদি জামে মসজিদের ইমাম জামাল উদ্দিনের কক্ষ থেকে তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান (৮), মতলবের ভাঙরপাড় মাদ্রাসার নূরানি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মতলবের কাশিমপুর এলাকার মো. ইব্রাহিম পাটওয়ারী (১২) এবং মতলবের উত্তর নলুয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র মো. রিফাত প্রধানিয়ার (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে