চট্টগ্রামে ৪১১ ক্যামেরায় নজরদারি ৭০ অপরাধপ্রবণ স্থান

0
27
সিসি ক্যামেরায় নজরদারির এ উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইজ অব সিএমপি’।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৭০টি স্থানকে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় এনেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ৪১১টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে সিএমপির নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ নজরদারি করা হবে। এ উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইজ অব সিএমপি’। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি টিম ২৪ ঘণ্টা এ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের দামপাড়া সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ক্যামেরা স্থাপন করার ফলে মানুষের মধ্য অপরাধভীতি কমবে। অপরাধ করে ধরা পড়ার ভয়ে অপরাধীদের মধ্যে অপরাধভীতি বাড়বে। এটাই আমাদের লক্ষ্য। ৪১১টি ক্যামেরার মধ্যে সাধারণ মানুষের লাগানো ক্যামেরাও রয়েছে। তাদের অনুমতি নিয়ে কন্ট্রোল রুমে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো নগরীকে সিএমপির নিজস্ব ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ফেস ডিটেকশন এবং নম্বর রিডেবল ক্যামেরা স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিএমপি সূত্র জানায়, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের প্রায় ৭০০ সিসিটিভি ক্যামেরা প্রাথমিকভাবে ‘আইজ অব সিএমপি’র জন্য নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে থেকে ৪১১টি ক্যামেরার সংযোগ দেওয়া হয়েছে সিএমপির নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। ৩২৪টি ক্যামেরা সবসময় জায়ান্ট স্ক্রিনে সচল থাকবে।

নজরদারিতে আসা স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে- জিইসি, ওয়াসা, ২নং গেইট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন, টাইগারপাস, নিউমার্কেট, বন্দর, পতেঙ্গাসহ নগরের ৭০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,‘আইজ অব সিএমপির সব ক্যামেরার ভিডিও ১৫ দিন পর্যন্ত স্টোরেজ করে রাখা হবে। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সবসময় দুইজন অপারেটর থাকবেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে ক্যামেরা সচল রাখতে একটি কারিগরি টিম সবসময় প্রস্তুত থাকবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ক্যামেরা দেখা না গেলে সঙ্গে সঙ্গে তারা গিয়ে সেটি সচলে ব্যবস্থা নিবেন।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিএমপির মোবাইল অ্যাপস ‘হ্যালো সিএমপি’তে নগরের ১১টি রুটের ভাড়া সংযোজন করা হয়েছে। যাত্রীরা অ্যাপসটির লোকেশন অপশন ব্যবহার করে নির্ধারিত ভাড়া জানতে পারবেন।

সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘এর মাধ্যমে ভাড়া নিয়ে যে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে তা নিরসন হবে। পাশাপাশি ভাড়া কম-বেশি নিয়ে বাসচালক আর হেলপারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হবে না। এরপরও কেউ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি চাইলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ ও সিএমপির নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে (৬৩০৩৫২, ৬৩৯০২২ ও ৬৩০৩৭৫) অভিযোগ জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, সানা শামীনুর রহমান, মো. শামসুল আলম ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. আমির জাফর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে