চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ

ভয়াবহ সংকট রোগীরা

0
123
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদানেও নেওয়া হয়েছে নানা সতর্কতা।

করোনা রোগী নিয়ে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি চট্টগ্রাম। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় করোনা ডেডিকেটেড দুই সরকারি হাসপাতালে আর ভর্তি করানো হচ্ছে না রোগী। সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ১০০ আইসোলেশন শয্যায় এখন রোগী আছে ১১০ জন। গতকাল শনিবার থেকে তাই আর নতুন রোগী ভর্তি করাচ্ছে না তারা। ৩০ শয্যার বিআইটিআইডি হাসপাতালেও খালি নেই কোনো শয্যা। আজ রোববার থেকে রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে সেখানেও। করোনা চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেই বিকল্প কোনো বেসরকারি হাসপাতাল। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য শয্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চললেও সময় লাগবে তাতেও। অথচ প্রতিদিনই করোনা রোগী বাড়ছে। চট্টগ্রামে এখন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় সাতশ’ জন।

গতকাল বিকেলে নগরীর সাগরিকা থেকে জটিল এক করোনা রোগীকে তার স্বজনরা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে বাসায় গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরমার্শ দেন চিকিৎসকরা। প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে পতেঙ্গা থেকে আসা ৬০ বছর বয়সী এক নারীও ভর্তি হতে পারেননি কোনো হাসপাতালে। তার ছেলে ওমর ফারুক বলেন, ‘হাসপাতালে মাকে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা বলেন, সিট খালি নেই। বাসায় চিকিৎসা করান। তাই ফিরে আসি বাসায়।’

দুই কোটি মানুষের জন্য চট্টগ্রামে এখন করোনা রোগীর চিকিৎসায় আছে কেবল সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ও বিআইটিআইডি হাসপাতাল। এ জন্য অনেক রোগীকে এখন বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে বলছেন চিকিৎসকরা। এতে করে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই বাড়ছে। গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় মারা গেছেন ৩২ জন। আর করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ২০ জনের।

শুধু করোনা রোগীর জন্য বেসরকারি কোনো ডেডিকেটেড হাসপাতাল নেই চট্টগ্রামে। সীতাকুণ্ডে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি হলেও যাতায়াত অসুবিধার কারণে সেখানে যেতে খুব আগ্রহী নন রোগীরা। হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল প্রস্তুত করা হলেও সেটি পরিচালনার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি মন্ত্রণালয়। অথচ এ সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে এক সপ্তাহ আগে।

সরকারি জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর সেবায় নিয়োজিত মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, ‘শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় গতকাল দুপুর ২টার পর থেকে আমরা আর নতুন রোগী ভর্তি করাচ্ছি না। আগে ভর্তি হওয়া রোগীদের কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি না ফিরলে এই হাসপাতালে নতুন করে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখতে হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে রোগী। সে তুলনায় বাড়ছে না হাসপাতালের শয্যা। বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত করা হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রোগী ভর্তি করতে পারব না হলিক্রিসেন্ট। চমেকে করোনা রোগী ভর্তির নতুন নিদের্শনা পেয়েছি গতকাল বিকেলে। তবে আলাদা গেট ও আলাদা শয্যা করে এ সেবা চালু করতে কিছু শর্ত দেওয়া আছে।’

করোনা বিষয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) গঠিত কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘করোনার ডেডিকেটেড দুটি সরকারি হাসপাতালে এখন আর নতুন রোগী নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চমেক হাসপাতালে করোনার আলাদা ইউনিট তৈরি করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ূয়া। গতকাল বিকেলে অনুমোদনের চিঠি পেয়েছে চমেক কর্তৃপক্ষ। কখন থেকে চমেকে এ সেবা শুরু করা যাবে, তা এখনই বলতে পারছি না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে