চট্টগ্রামে খুলছে না রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বড় পাইকারি মার্কেট

0
105
মাকের্ট

সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও চট্টগ্রামে নিত্যব্যবহার্য পণ্যের বড় পাইকারি বাজার টেরিবাজার, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও তামাকুন্ডি লেইন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার দুপুরে দামপাড়া সিএমপির সম্মেলন কক্ষে নগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা। এরআগে নগরের অধিকাংশ শপিংমল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। বৈঠকে ব্যবসায়ী সমিতির অধিকাংশ নেতারা ঈদের আগে তাদের মার্কেট খুলবেন না বলে জানিয়েছেস। দোকান বন্ধ ও খোলা রাখা তাদের অধিকার। এরপরও কেউ যদি দোকান খুলে তাহলে তাদেরকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে কিছু দিক নির্দেশনা মানতে হবে।

সিএমপি সূত্র জানায়, সভায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা ও  যারা দোকান খুলতে চান তাদের স্বাস্থ্যবিধিসহ করোনা বিস্তার রোধে বিভিন্ন শর্ত মেনে চলতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এসময় অধিকাংশ ব্যবসায়ী নেতারা ঈদের আগে নির্ধারিত সময়ে দোকান খোলা রাখবেন না বলে জানিয়ে দেন। বিভিন্ন শর্তের কারণে অন্যরাও সরে আসেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (জনসংযোগ) আবু বকর সিদ্দিক জানান, যারা শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখবে তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্য বিধি বজায় রাখতে হবে। শপিংমলের প্রবেশ পথে জীবানুনাশক চেম্বার স্থাপন, প্রবেশমুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবস্থা করা এবং মাস্ক ছাড়া কাউকে মার্কেটে ঢুকতে না দেওয়া, কেনাকাটায় সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করা, মার্কেটে আসা গাড়িগুলো জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা ও সংশ্লিষ্ট মার্কেটের দুই কিলোমিটারের মধ্যে বাসিন্দাদের মার্কেটে প্রবেশ করতে দেওয়া, ক্রেতাদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক সঙ্গে রাখাসহ করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তাররোধে সিএমপির জারি করা নির্দেশনাগুলো মানতে হবে। অন্যথায় দোকান বা মার্কেট বন্ধ করে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাপড়ের বড় পাইকারি বাজার টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, সরকার দোকান খোলা যাবে জানালেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান খুলতে আগ্রহী না। যার কারণে টেরিবাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জাকাতের কাপড় গুদাম থেকে ট্রাকে করে ক্রেতাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

তামাকুন্ডি লেইন বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সমিতির আওতায় ১১০টি মার্কেটের প্রায় ১৩ হাজার দোকান রয়েছে। সারা বছর ঈদ মৌসুমের দিকেই তাকিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোকান না খুলতে মাইকিং করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার নগরের প্রায় ১১টি মার্কেট বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে