ঘাটতির চিন্তা না করে প্রণোদনা দিতে হবে: গীতা গোপীনাথ

0
316
গীতা গোপীনাথ। ছবি: রয়টার্স

করোনা সংকটে বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। এ অবস্থায় অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা প্রকল্প ঘোষণা করেছে অনেক দেশ, যদিও এতে রাজস্ব ঘাটতি বাড়বে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাতে ঋণের পরিমাণও বাড়বে।

এসবই ঠিক আছে, কিন্তু কথা হলো, দ্রুত এই প্রণোদনা দেওয়া না হলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে অনেক দেশের অর্থনীতি। তাই ঘাটতির হিসাব আপাতত পাত্তা না দিয়ে যেকোনো মূল্যে অর্থনীতির চাকা চালু রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ। লাইভ মিন্ট থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

আইএমএফ সাধারণত রাজস্ব ঘাটতি বেশি বাড়তে দিতে চায় না। সাধারণত বেহাল অর্থনীতি চাঙা করতে তারা যে ঋণ দেয়, সেই ঋণ প্রাপ্তির প্রাথমিক শর্ত হিসেবে তারা সরকারি ব্যয় হ্রাসের শর্ত দিয়ে থাকে।

কিন্তু করোনার হানায় সবকিছু যেন ওলট-পালট হয়ে গেছে। তাই আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ বলছেন, ‘ত্রিশের দশকের মহামন্দা (গ্রেট ডিপ্রেশন), ২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দার (গ্রেট রিশেসন) পরে এখন বিশ্ব অর্থনীতির কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার (গ্রেট লকডাউন) পথে। এই অভিঘাত এতই বেশি যে অর্থনীতির সাধারণ ওষুধে এই সংকট কাটানো কঠিন।’ গীতার দাবি, জিডিপির সাপেক্ষে ঘাটতি বা সরকারি ঋণের অনুপাত বাড়লেও প্রণোদনা ছাড়া উপায় নেই।

তবে এখনকার পরিস্থিতি গ্রেট ডিপ্রেশন বা গ্রেট রিসেশনের চেয়ে ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন গীতা গোপীনাথ। তাঁর যুক্তি, সাধারণ সময়ে আইএমএফের ঋণ বা সরকারের প্রণোদনা ঘোষণার লক্ষ্য থাকে যেন ওই টাকা খরচের ফলে চাহিদা বাড়ে। আর্থিক কর্মকাণ্ডে গতি আসে। কিন্তু এখন পৃথিবী ঘরবন্দী। তাই কেনাকাটা করতে মানুষের হাতে টাকা দেওয়া এই প্রণোদনার লক্ষ্য নয়। সেটা বাস্তবে সম্ভবও নয়। রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই পরিসরও সীমিত। বরং লকডাউনে কাজ হারানো কর্মীদের হাতে যেন সংসার চালানোর মতো খরচ থাকে বা এই কঠিন সময়ে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত ছয় মাস টিকে থাকতে পারে, সে কারণে এখন প্রণোদনা জরুরি। লকডাউন তুলে নেওয়ার পর অর্থনীতি যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার রাস্তা খুঁজে পায়, সে জন্য এই প্রণোদনা জরুরি; নয়তো অর্থনীতির ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মহামারির থাবায় ধুঁকতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতির গতি ফেরাতে কার্যত একই কথা বলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার দুফলো। কাজ হারানো কর্মীদের হাতে টাকা আর বিপদে পড়া ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ইতিমধ্যেই ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন শীর্ষ ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। ওই দুই প্রয়োজনে ব্রিটিশ সরকারকে প্রয়োজনমাফিক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির শীর্ষ ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

তবে গোপীনাথ এ কথাও বলেছেন যে প্রণোদনা দিতে গিয়ে রাজস্ব ঘাটতি মাত্র ছাড়িয়ে যেতে পারে। জিডিপির অনুপাতে ঋণ বেড়ে গিয়ে বিপদ হতে পারে। সে জন্য যথোপযুক্ত রাজস্বনীতিও গ্রহণ করতে হবে। আর এই পরিস্থিতিতে ঠিক কাজটি না করলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন গীতা গোপীনাথ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.