ঘরে বসেই সার্টিফিকেট সংশোধন করা যাবে

0
2007
অরিজিনিয়াল সার্টিফিকেট

বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষায় পাস করার পর প্রাপ্ত সনদপত্রে নামসহ বিভিন্ন ভুল থাকতে পারে। এ ব্যাপারে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এখন নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে। শুধু সংশোধিত সার্টিফিকেট আনতে একবারই বোর্ডে যেতে হবে।

সংশোধন অনলাইন/অফলাইন দু’ভাবে করা যাবে।তবে দালাল না ধরে অনলাইনে করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে ও খরচ কম হয়। খরচের তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ

১. পত্রিকা বিজ্ঞাপন-৩০০টাকা, ২. নোটারি পাবলিক-৫০০টাকা(কম বেশি হতে পারে), ৩. আবেদন ফি-৫৫৮x২=১১১৬টাকা (এসএসসি ও এইচএসসি), ৪. সাটিফিকেট উত্তোলন ফি-৫৫৮x২=১১১৬টাকা(২টি)।মোট খরচ তিন হাজার ৩,০৩২টাকা। যাতায়াতসহ ৩৫০০টাকার মত খরচ হবে।

১. নোটারি পাবলিক-নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমে একজন আইনজীবির সহায়তায় নোটারি বা এফিডেভিট করাতে হবে। প্রার্থী যদি ১৮ বছরে উপরে বয়স হন তাহলে নিজেই এফিডেভিট করাতে পারবেন। ১৮ বছরের নিচে বয়স হলে তার অভিভাবককে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের কাছে এফিডেফিট করাতে হবে।

২. হলফনামা সম্পাদনের পর একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিটি ছাপাতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর সার্টিফিকেট নাম, বাবার নাম, মাতার নাম, শাখা, পরীক্ষার সাল, পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম, রোল নাম্বার, বোর্ডের নাম এবং জন্ম তারিখ উল্লেখ করে যা সংশোধন করতে চান( প্রার্থীর নাম, বাবার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ) তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে।

২টি কাজ সম্পাদন করার পর আপনি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে পাস করেছেন সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর ঐ দু’টি কাগজ এবং আপনার বাবা মা’র নাম সংশোধন করতে হলে উনাদের সাটিফিকেট, ন্যাশানাল আইডি কার্ড এবং নিজের নাম, জন্ম তারিখ হলে নিজের জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হবে। কারণ প্রত্যক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব EIIN ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়।

কাগজ পত্র রেডি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানাতে হবে এবং নির্দেশ দিবেন কম্পিউটার অপারেটরকে। আপনার সমস্ত কাগজপত্র স্ক্যা্ন করে অপারেটর বোর্ডে আবেদন করে দিবেন। সাথে সাথে আপনার মোবাইলে এসএমএস চলে আসবে। তারপর উনি সোনালী ব্যাংকে আবেদন ফি জমা দানের জন্য একটা রশিদ দিবেন। প্রতিটির জন্য ৫৫৮ টাকা জমা দিতে হবে। জমা রশিদ যত্নসহাকারে রাখতে হবে। আবেদন ফি জমা দিলে শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইডে আপনার নামে আলাদা প্রোফাইল তৈরী হবে।

লগ ইন লিংক: https://efile.dhakaeducationboard.gov.bd/index…./……./lastupdate

এখানে লগ ইন করে আপনার মোবাইলে সবশেষ অবস্থা জেনে নিতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে তিন মাস সময় লাগবে। যখন কাজ শেষ হবে আপনার মোবাইলে এসএমএস চলে আসবে এবং আপনার প্রোফাইল লগইন করবেন।

সেখানে নতুন একটা অপশন আসবে ‘‘ডকুমেন্ট উত্তোলন’’। সেই অপশনে আপনি উত্তোলনের জন্য আবেদন করবেন। আপনার আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হবে না। আবেদনের পর ফি ৫৫৮টাকা জমাদানের জন্য একটি ডকুমেন্ট পেয়ে যাবেন। তারপর এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

এক সপ্তাহের পর আপনার মোবাইলে এসএমএস চলে আসবে। এরপর আপনি আপনার প্রোফাইল লগইন করে ডকুমেন্ট প্রিন্ট করে নিন। প্রথমবারের মত আপনাকে শিক্ষা বোর্ডে যেতে হবে। সেখানে ৪ নাম্বার ভবনে ৫তলায় দিয়ে আপনার অরিজিনিয়াল সার্টিফিকেট জমা দিন।পরের দিন বিকালে আবার সেই ভবনে যান। অরিজিনিয়াল ডকুমেন্ট ও টাকা জমা রশিদ নিয়ে দেখান তারপর আপনা মূল সংশোধিত সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।

কোন দালাল ছাড়া একটু সময় নিয়ে অনলাইনে আবেদন করলে বাড়তি কোন ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে