গ্রামের বাড়িতে চির সমাহিত সাংসদ বাদল

0
126
মঈনউদ্দিন খান বাদল

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে সৃষ্ট বৈরি আবাহওয়ার মধ্যেও চট্টগ্রামে সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদলের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।

শনিবার ঢাকায় তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জাসদ নেতার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্যরাও তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেখান থেকে সড়কপথে তার মরদেহ চট্টগ্রামে আনা হয়। বাদ মাগরিব চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালীতে। বাদ এশা বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাড়ি সংলগ্ন নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে রাতেই গার্ড অব অনার দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চির সমাহিত করা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে বিমানযোগে শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তার মরদেহ। মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ আগে চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে পৌঁছে সাংসদ বাদলের মরদেহ। মসজিদের সামনের ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টিপাতের কারণে তা সম্ভব হয়নি। মসজিদের ভেতরে জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভী, মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারাসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে জানাজা শেষে বাদলের মরদেহ বোয়ালখালীতে নিয়ে যাওয়া হলে সর্বস্তরের মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন। সেখানেও পুলিশের একটি সু-সজ্জিত চৌকর্ষ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। জানাজায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে নুর আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আরেকটি জানাজা হয়। এরপর তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। বেদনা ভরা হৃদয়ে প্রিয় মানুষকে শেষ বিদায় জানান এলাকাবাসী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে