গোসলের দৃশ্য ধারণের ঘটনায় ছাত্রীর আত্মহত্যা, পরিবারের দাবি হত্যা

0
813

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মুঠোফোনে এক কলেজছাত্রীর (২১) গোসলের দৃশ্য ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে হাসান পাটওয়ারী (২২) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাগে-ক্ষোভে ওই ছাত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ছাত্রীর পরিবারের দাবি, বখাটে হাসান তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছেন।

গত রোববার শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে। মৃত ছাত্রী চাঁদপুর সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে পড়তেন।

পরিবারের ভাষ্যমতে, ২০১৬ সালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তৌকির আহমেদ নামের এক ব্যক্তির বিবাহ হয়। পরে তৌকির সৌদি আরব চলে যান। তখন থেকে ছাত্রী শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন। রোববার শাশুড়ি ঈদের কেনাকাটা করার জন্য হাজীগঞ্জ বাজারে যান। এ সময় ছাত্রী ঘরের পেছনে টিউবওয়েলে গোসল করছিলেন। তখন তাঁর চাচাতো দেবর হাসান গোপনে ছাত্রীর গোসলের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন। গোসল শেষে ছাত্রী ঘরে ঢুকলে হাসান তাঁকে ওই কথা জানান। এতে ছাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শাশুড়ি ও প্রবাসে থাকা স্বামীকে ঘটনাটি জানিয়ে রাগে-ক্ষোভে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনায় শাশুড়ি ওই দিন রাতেই হাসানকে অভিযুক্ত করে শাহরাস্তি থানায় মামলা করলে তিনি পালিয়ে যান। আর ছাত্রীর লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শাশুড়ি বলেন, হাসান দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। ঈদের আগের দিন বাজার করতে যাওয়ার পর পুত্রবধূর গোসলের দৃশ্য ভিডিও করে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন।

ছাত্রীর চাচা ও মামা অভিযোগ করেন, মেয়েটির গোসলের দৃশ্য ধারণ করে হাসান তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছেন। ঘরে একা পেয়ে তাঁকে ধর্ষণও করে থাকতে পারেন তিনি। পরে বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন বলে তাঁরা জেনেছেন। সুষ্ঠু তদন্ত করে মেয়েটির মৃত্যুরহস্য উদ্‌ঘাটন ও দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

ছাত্রীর বাবাও তাঁর মেয়েকে ‘হত্যার’ বিচার দাবি করে প্রশাসন ও মানবাধিকারকর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহরাস্তি থানার উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, হাসানকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিবারের হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ফাঁস লাগানোর ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, মূলত গোসলের দৃশ্য ধারণ করার কারণে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছেন। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে এটাই বোঝা যায়। তাঁকে হত্যা বা ধর্ষণের আলামত মেলেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.