গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক গ্রেপ্তার

0
62
গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসক নাহিদা আক্তার রেনু।

চট্টগ্রামে কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের পর বাসায় আটকে রাখার অভিযোগে নারী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চিকিৎসক নাহিদা আক্তার রেনু চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরার মো. ইউনুছের বাড়ির জহুরুল আলমের মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় থাকেন তিনি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত তিনি। উদ্ধার হওয়া কিশোরী তসলিমা আক্তার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার রাজঘাটা গ্রামের আবদুল গনির মেয়ে।

চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বাদী আব্দুল গনি অভিযোগ করেছেন, গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে তার মেয়ে মাসে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে চিকিৎসক নাহিদার বাসায় কাজ করে আসছে। তিন মাস আগে থেকে মেয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বাসায় সশরীরে এসে ও মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তিনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মেয়ের খোঁজে ওই বাসায় যাওয়ার পর নারী চিকিৎসক তাকে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা বাসার সামনে অবস্থানের পর মেয়েকে বাসার বেলকনিতে দেখে নিচে নেমে আসতে বলেন। মেয়েটি দৌড়ে নিচে নেমে আসতে চাইলে তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে বাসায় আটকে রাখেন চিকিৎসক। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে বাসা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসক নাহিদাকে আটক করা হয়।

আব্দুল গনি মেয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন, গত ১৮ জুলাই ড্রেসিং টেবিলের নিচে পড়ে যাওয়া একটি কাজল ঘর পরিস্কারের সময় সে পায়। কৌতূহলবশত কাজলটি সে নিজে ব্যবহার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদা তাকে মারধর করে জখম করে এবং গলা টিপে ধরেন। পর দিন তাকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি সেলুনে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেন। সেলুনে গিয়ে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন চিকিৎসক নাহিদা। এরপর থেকে তাকে বাসায় আটকে রাখা হয়।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজেশ বড়ূয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। নির্যাতনকারী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে