‘গুলি হবে গুলি’: জবাব দিলেন ওসি

0
355
গত ২১ অক্টোবর এভাবেই পদ্মায় মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান চালায় পুলিশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মা ইলিশ ধরা বন্ধে পদ্মা নদীতে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনের স্পিডবোট নিয়ে অভিযানের দুইটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে তা

নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে আজ শনিবার ওই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ওসি।

ভিডিও দুটির মধ্যে একটি ২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড অন্যটি ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের। ভিডিও দুটিতে দেখা যায়, ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা-পুলিশের একটি দল স্পিডবোটে নিয়ে পদ্মায় জেলেদের আরেকটি স্পিডবোটকে তাড়া করছে। এ সময় জেলেদের স্পিডবোট পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের স্পিডবোট থেকে ওসি বন্দুক উঁচিয়ে বারবার বলছিলেন ‘গুলি হবে, গুলি কর, গুলি কর’।

ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের স্পিডবোট থেকে অন্য সদস্যরাও গুলি করব বলে চিৎকার করছিলেন। মাছ ধরতে আসা স্পিডবোটটি তাড়া খেয়ে দ্রুত চালাতে থাকে। একপর্যায়ে নদীর তীরে ভেড়ার পর কয়েকজনকে সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ভিডিওটি গত ২১ তারিখের। সেদিন ওই অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো গুলি করা হয়নি। গুলি গুলি বলে জেলেদের ভয় দেখানো হয়েছে। যাতে গুলির কথা শুনে স্পিডবোট থামিয়ে দেয়। জেলেরা দৌড়ে পালানোর পর মাছ ধরার কিছু জালসহ ওই স্পিডবোটটি জব্দ করা হয়।

ওসি আরও বলেন, প্রজনন মৌসুমে সরকার ইলিশ ধরা নিষেধ করেছে। সরকারের এ নির্দেশ পালনে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নদীতে ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পদ্মায় কেউ কেউ ইলিশ ধরতে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে ওসি বলেন, যারা দেশের সম্পদ রক্ষা করতে চায় না, যারা সরকারের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। অথবা যারা মাছ ধরতে, কিনতে ও বিক্রয় করতে পারছেন না তারাই বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, ওই অভিযানে কোনো গুলি চালানো হয়নি। জেলেদের স্পিডবোট থামানোর জন্য ভয় দেখানো হয়েছে।

এই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ হওয়ার পরই অনেকে এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ এই অভিযানকে বাড়াবাড়ি বলে উল্লেখ করেছেন।

‘মা ইলিশ’ সংরক্ষণের জন্য গত ৯ অক্টোবর থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই সময় কেউ ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে