গুলশানে আগুনের ধোঁয়ায় বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু

0
64
আগুন

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গতকাল দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে গুলশান ১ নম্বরের ৭ নম্বর সড়কের এ-৪ নম্বর ফ্ল্যাটে ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতির শোবার ঘরে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এ সময় ওই দম্পতি ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। পাশের কক্ষে থাকা গৃহকর্মীদের চিৎকার শুনে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তাঁরা ফ্ল্যাটে ঢোকার দরজা ভাঙলে দুই গৃহকর্মী বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতির কক্ষের দরজা বাইরে থেকে ভেঙে ফেললেও পুরো ফ্ল্যাট ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় তাঁদের উদ্ধার করতে পারেননি তাঁরা। জাহানারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও ওবায়দুল অসুস্থ ছিলেন।

অভিযানে যুক্ত তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার বলেন, খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সেখানে পৌঁছায়। তারা দেখতে পায়, কক্ষের চেয়ার-টেবিল, কাঠের আলমারি ও বিছানার একপাশে আগুন জ্বলছে। জাজিমের অন্য পাশে নিথর পড়ে ছিলেন ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতি। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিভিয়ে ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতিকে উদ্ধার করে গুলশানের বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠান। কিছুক্ষণ পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরা মারা যান।

তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ওবায়দুল একসময় ঠিকাদারি পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক জহিরুল বলেন, দম্পতি বিষাক্ত ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তাঁদের শোবার ঘরে মুঠোফোনে চার্জ দেওয়া হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী বলেন, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে ওবায়দুল-জাহানারা দম্পতির লাশ দাফনের জন্য তাঁদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে নিয়ে গেছেন স্বজনেরা। এ ব্যাপারে গুলশান থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.