গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ঃ প্রতিবাদ হিসেবে শব্দ মুছে সংবাদপত্র প্রকাশ

0
179
বিভিন্ন পত্রিকার একজোট হয়ে এই অভিনব প্রতিবাদের ছবি টুইটারে প্রকাশ করেছেন নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়ার নির্বাহী চেয়ারম্যান মাইকেল মিলার।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করে অস্ট্রেলিয়ায় আইন করার প্রতিবাদে দেশটির সংবাদপত্রগুলো প্রথম পাতার শব্দ মুছে পত্রিকা প্রকাশ করেছে। গণমাধ্যমে প্রতিযোগিতার দৌড়ে শামিল সংবাদপত্রগুলো প্রতিযোগিতা ভুলে আজ সোমবার একজোট হয়ে এই অভিনব প্রতিবাদ করেছে।

সংবাদপত্রগুলো প্রথম পাতার শব্দ কালি দিয়ে মুছে পাশে ‘সিক্রেট’লেখা লাল সিল মেরে প্রকাশ করেছে।

সাংবাদিকদের মতে, আইনটির মাধ্যমে সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ায় ‘গোপনীয়তার সংস্কৃতি’ চালু করেছে।

সরকার বলছে, তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে। তবে ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়’।

আজ বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, গত জুনে পুলিশ অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনে (এবিসি) এবং নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়ার এক সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালালে তা নিয়ে কঠোর সমালোচনা হয়।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করেছে, হুইসেলব্লোয়ার বা সতর্কতাকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়া গোপনীয় তথ্য পেয়েছিল তারা। এর মধ্যে একটি ছিল যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য। আরেকটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ওপর সরকারি সংস্থার গুপ্তচরবৃত্তির চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে।

‘রাইট টু নো কোয়ালিশন’ (জানার অধিকার জোটের) ব্যানারে সংবাদপত্রগুলোর আজকের এই প্রতিবাদে সমর্থন দিয়েছে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল এবং অনলাইন আউটলেট।

নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়ার নির্বাহী চেয়ারম্যান মাইকেল মিলার বিভিন্ন পত্রিকার মাস্টহেডসহ প্রথম পাতার শব্দ কালি দিয়ে মুছে ফেলার ছবি টুইটারে প্রকাশ করেছেন। ‘তারা আমার কাছ থেকে কী লুকানোর চেষ্টা করছে?’ তিনি সরকারকে এই প্রশ্ন করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

হ্যাশ ট্যাগ রাইটটুনো (#righttoknow) লিখে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকেদের প্রতিবেদনের ওপর প্রতিবার সরকার নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অস্ট্রেলিয়াবাসীদের জিজ্ঞেস করা উচিত “তারা আমার কাছ থেকে কী লুকাতে চায়?” অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ক্রমবর্ধমান গোপনীয়তার বিরুদ্ধে কেন আমাকে দাঁড়াতে হচ্ছে?’

প্রথম পাতার শব্দ কালি দিয়ে মুছে সংবাদপত্র প্রকাশ করে অভিনব প্রতিবাদ। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

এবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড অ্যান্ডারসন বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয়তাপূর্ণ গণতন্ত্রের দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়া।

আইনটি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল রোববারও অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলেছে, তিনজন সাংবাদিক বিচারের সম্মুখীন হতে পারেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব অনেক। তবে আইনের শাসন ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘সেটা আমার বা কোনো সাংবাদিক বা যে কারও জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক তদন্তে পাওয়া পর্যালোচনা আগামী বছর দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপনের কথা রয়েছে।

সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবাদ প্রচারাভিযানে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাবিষয়ক আইনের কড়াকড়ি আরোপের কারণে দুই দশক ধরে দেশটির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জনগণের জানার অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে।

গত বছর গোয়েন্দা তৎপরতা প্রতিরোধবিষয়ক নতুন আইন চালু হওয়ার পর গণমাধ্যমগুলো সাংবাদিক ও তথ্য প্রকাশ করে নাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দিতে তদবির করেছে। গণমাধ্যম সংস্থাগুলো তথ্যের স্বাধীনতা এবং মানহানির আইন সংস্কারের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৃহত্তর গণতন্ত্রের আহ্বান জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমের অভিনব প্রতিবাদের তথ্য তুলে ধরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যম জগতে সাধারণত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার মানসিকতা দেখা যায়। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে, এমন কোনো আইন করলেও তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পৃথকভাবে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষ অবলম্বন করে প্রকাশ করতে দেখা যায় বিভিন্ন নিবন্ধ। এমনকি বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারের সম্মিলিত প্রতিবাদের নজিরও কম নয়। কিন্তু শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোকে এক জোট হয়ে নিজেদের পত্রিকা মারফতই এর প্রতিবাদ জানানোর নজির খুব একটা নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে