ক্যানসারজয়ী ফারহানার উদ্যোগ

0
542
ফারহানা হক। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের মাত্র আট মাস পার হয়েছে। ফারহানা হক জানতে পারলেন তাঁর মরণব্যাধি ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের কথা। ২০১১ সালে এমন ভয়ানক রোগে স্তম্ভিত, টালমাটাল তিনি। এ ধরনের ক্যানসারে সন্তান জন্ম দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সবার মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেল।

এমন সময় ফারহানার পাশে এসে দাঁড়ালেন তাঁর বাবা ফজলুল হক। শুরু হলো ভারত-বাংলাদেশ ছোটাছুটি, চিকিৎসা। নানান মানসিক চাপ সামলিয়ে, সুস্থ হয়ে ২০১৩ সালে সন্তানের জন্ম দিলেন ফারহানা। এ এক অন্য রকম বিজয়।

এখানেই শেষ হতে পারত ফারহানার গল্প। কিন্তু তিনি তো ক্যানসারযোদ্ধা, জয়ী। নিজের শারীরিক জটিলতা আর সন্তানের কারণে চাকরিজীবনে আর ফিরে যাননি তিনি। ঘরকন্না আর সন্তান সামলাতেন ফারহানা। কিছুটা বেড়ে উঠলে ছেলে আইয়ানের সবচেয়ে বেশি প্রিয় খাবার হয়ে ওঠে মায়ের হাতে বানানো কেক। তার আবদার মেটাতে প্রায়ই কেক বানাতেন তিনি।

শুরুতে শখের বশে বানানো কেক পরে নেশায় পরিণত হলো। বাসায় বসে ছেলের জন্য যেভাবে খাবার প্রস্তুত করেন, ঠিক সেই নিয়মে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নভাবে কেক তৈরি করেন তিনি। হোম বেকার থেকে শখের বশে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করলেন তিনি। কেক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসায় হাতেখড়ি। শুরুতে পরিচিতদের কাছে কেক বিক্রি করলেও গত বছর ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফারহানার প্রতিষ্ঠান ‘ফারহানার ঘরোয়া খাবার’। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকে তাঁর প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে মাসে আয় হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।

ফারহানা বললেন, শুরুতে উৎসাহ দেন ছোট বোন ফারজানা হক। তবে কেক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসায় হাতেখড়ি হয়েছিল রামপুরার বনশ্রীর বাসায় স্বামীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে। শখের বশে কেক বানানো শেখার কথা স্বামী জানতেন, তবে ব্যবসা হিসেবে কেককে বেছে নেবেন, এমনটা ভাবেননি। পরে খুশি আর অবাক হন স্বামী রায়হান শরীফ। উৎসাহ দিতে শুরু করেন তিনিসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সংসার, সন্তান সামলে ফারহানার এই নতুন পরিচয়ে বাহবা জানান আত্মীয়, বন্ধু সবাই।

ক্রেতার পছন্দসই কাপকেক, বাটার স্কচ, রেড ভেলভেট, অরেঞ্জ, ফনডেন্টসহ কয়েক রকমের কেক, এক্লেয়ারস, সুগার কুকি, কাঠি আইসক্রিমের মতো দেখতে কেক্সিকেলস তৈরি করে বিক্রি করেন ফারহানা। কেকের পরিমাণ, নকশা, উপাদান ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় দাম।

ফারহানা বললেন, ‘শখ থেকে ব্যবসায় আসা। ভালোবাসি কেক বানাতে। স্বপ্ন দেখি, নিজের একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর যেখানে ভেজালের বাইরে পরিচ্ছন্ন খাবার দিতে পারি। আর সেই সঙ্গে কিছু মানুষ নিয়ে কাজ করতে চাই, যাদের আমি গৃহিণী পরিচয়ের বাইরে একটি আলাদা পরিচয় দিতে পারি।’

তানজিনা আকতারী, ঢাকা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.