কে হচ্ছেন ‘মিসেস বাংলাদেশ’

0
341
আয়োজকদের সঙ্গে মিসেস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার সেরা ১০ প্রতিযোগী।

প্রায় দুই বছর ধরে চলেছে খোঁজ, বাছাই ও প্রশিক্ষণ। বেছে নেওয়া হয়েছে সেরা ১০ জন ‘মিসেস’কে। এবারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিসেসকে বেছে নেওয়ার পালা। ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় গুলশান ক্লাবে বসছে সেই আয়োজন। বিবাহিত নারীদের নিয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে সেদিন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের তারিখ ঘোষণা করেন আয়োজকেরা। পাশাপাশি পরিচয় করিয়ে দেন সেরা ১০ প্রতিযোগীর সঙ্গে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিসেস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার আয়োজক–প্রধান অপূর্ব আবদুল লতিফ, বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস মিসেস বাংলাদেশ-২০১৯ প্রকল্পটির পরিচালক আফসানা হেলালী, কৃষাণ ভূঁইয়া, অভিনেতা অন্তু করিম, টেলিভিশন প্রযোজক রাজু আলীম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন অপূর্ব আবদুর লতিফ

আবদুল লতিফ বলেন, বাংলাদেশে বিবাহিত মেধাবী নারীদের নিয়ে এ রকম কোনো আয়োজন আগে হয়নি। নারীর শক্তি ও জাগরণকে একধাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁদের এ আয়োজন। তিনি বলেন, ‘সংসার আর সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করে অনেক নারী তাঁদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। আমাদের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা। সংসারের পাশাপাশি যাতে তাঁরা সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন।’

নিজের অনুভূতির কথা জানান মিসেস আফরিন আনিস রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেরা ১০ প্রতিযোগী। প্রতিযোগিতায় নিজেদের অংশ নেওয়ার পেছনের গল্প বলেন তাঁদের অনেকে। যশোরের সুমা নুসরাত বলেন, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়। মাটির ঘর ও উঠান লেপেন। পাতা কুড়িয়ে রান্না করেও সংসার টেকাতে পারেননি তিনি। পরে সন্তানসহ ঢাকায় এসে নতুন করে সংসার শুরু করেন। এবার যোগ দেন মিসেস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায়।

অন্য প্রতিযোগীরা হলেন আফরিন আনিস রহমান, মাটি সিদ্দিকী, মনিয়া, আবাফা দিলশা, রুমানা, সনজিদা, মুনজারিন অবনী, রাবেয়া ও সামান্তা।

নিজের অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন মিসেস মুনজারিন অবনী।

 

বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাথমিক নির্বাচন, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাউন্ড পার হয়ে অডিশন, গ্রুমিং ও মোটিভেশনাল পর্বের পর সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া প্রতিযোগীদের মধ্যে আছেন গৃহিণী, উদ্যোক্তা, সামাজিক উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার নারী।

দুই বছর আগে এই প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এ সময়ের মধ্যে চলতে থাকে বাছাইপর্ব। বাছাইয়ের বিভিন্ন পর্বে বিচারক হিসেবে ছিলেন দেশের ফ্যাশন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। সামাজিক মিডিয়ায় এই প্রতিযোগিতা বেশ সাড়া ফেলে। আন্তর্জাতিক অনুমোদন পেলে আগামী ডিসেম্বর মাসে বিজয়ী ‘মিসেস বাংলাদেশ’ যোগ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠেয় মিসেস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে