কাকতাড়ুয়াই বাঁচিয়ে রেখেছে যে গ্রামকে!

0
196
জনসংখ্যা সমস্যায় ভুগছে জাপান।

জাপানের অনেক অঞ্চলই জনসংখ্যা সমস্যায় ভুগছে। তরুণ প্রজন্ম কাজের সন্ধানে ছুটছে শহরে আর বয়স্করা মারা যাচ্ছেন। এ সমস্যায় ভুগছে জাপানের নেগোরোও। সেখানে জনসংখ্যা কমতে কমতে ৩০ এর নিচে চলে এসেছে। কিন্তু এত কম জনসংখ্যা হলেও নেগারো কিন্তু জাপানের অন্য অঞ্চলের মতো জনশূন্য নয়। কারণ গোটা গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা আছে শত শত পুতুল। যেগুলোর দিকে তাকালে মানুষের উপস্থিতিই টের পান পর্যটকরা।

জাপানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব জাপানের নেগোরো গ্রামের নানা প্রান্তে প্রায় ৩৫০টি কাকতাড়ুয়া বা মানুষ আদলে তৈরি পুতুল রাখা আছে । ২০০২ সালে সুসকিমি আয়ানো নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ও চিত্রশিল্পী নিজের গ্রামে ফিরে এসব পুতুল তৈরির কাজ শুরু করেন।

চিত্রশিল্পী সুসকিমি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন জাপানের ওসাকাতে। একটা সময় তিনি খেয়াল করেন, তার জন্মস্থান নেগারোতে জনসংখ্যা কমতে কমতে ধীরে ধীরে তা ভুতুরে স্থানে পরিণত হচ্ছে।

পরিত্যক্ত ক্লাস রুমেও আছে কাকতাড়ুয়ার দল

তার বাবা কাকতাড়ুয়ার মাধ্যমে কীভাবে নিজের বাগান থেকে পাখিদের দূরে রাখতে সেটা মনে করলেন সুসকিমি। তিনি ভাবেন, ওই কাকতাড়ুয়ার মতো কিছু তৈরি করে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে রাখতে পারলে এটি আর জনশূন্য মনে হবে না।

এরপরই শুরু হলো সুসকিমির মানুষ পুতুল তৈরির কাজ। খড় দিয়ে তৈরি কাকতাড়ুয়াতে আঁকলেন মানুষের মুখ। এরপর সেগুলো রাস্তার পাশে, বাড়ির বাগানে, পরিত্যক্ত ক্লাস রুমে রাখতে শুরু করলেন।

নেগোরোতে মানুষের সংখ্যা কমলেও সুসকিমির তৈরি কাকতাড়ুয়ার শিল্পকর্ম দেখতে হাজারো মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাতে শুরু করলেন।

শুধু তাই নয়, সুসকিমি প্রতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কাকতাড়ুয়া তৈরির কর্মশালার আয়োজন করেন। আর অক্টোবর জুড়ে কাকতাড়ুয়া উৎসবের আয়োজনও হয় ওই গ্রামে। সূত্র: মেন্টালফ্লোজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.