কলাবুনিয়া লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহারে ২৬তম দানোত্তম কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠিত

0
986
অনুষ্ঠানে চীবরকে মাথায় তুলে কঠিন চীবর উৎসর্গ করা হয়।

উৎসব মুখর পরিবেশে বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠ পার্বণ ২৬ তম দানোত্তম কঠিন চীবরদান কলাবুনিয়া লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা রাঙ্গামাটি শহরের অদুরে সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত।

এ উপলক্ষে দুই দিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কঠিন চীবর দানা্নুষ্ঠানে উপস্থিত ভিক্ষুসংঘ।

২ নভেম্বর শনিবার রাতে আতশবাজি ফাটানো, ঝারবাতির মনোরম আলোক সজ্জা ও নানা রকম সাজসজ্জায় বিহার এলাকা সাজানোর মধ্য দিয়ে কাপড়/চীবর বুননের জন্য ভিক্ষুসংঘ ফিতা কেটে বেইনঘর উদ্বোধন করেন। পরে পঞ্চশীল গ্রহন প্রদান করে সংক্ষিপ্ত ধর্মদেশনার মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। রাতে ফানুশ উত্তোলন, আতশবাজি ফাটানো, সারা রাতব্যাপী নাটক মঞ্চায়ন ও সাংস্কৃতিক অনু্ষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য অগণিত দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

কলাবুনিয়া লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ চন্দ্রবংশ মহাস্থবির ভান্তে বেইনঘর উদ্বোধন করছেন।

গতকাল ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ পূণ্যানুষ্ঠানে সকালবেলায় সংঘদান, অষ্টপরিস্কারদান, পিন্ডদান, বুদ্ধমুর্তিদান ও নানাবিধ দানীয় সামগ্রীর ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্যে পূণ্যার্থীরা দানকার্য সম্পাদন করেন। এতে স্থানীয় ও দুরদুরান্ত হতে বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থী অংশ গ্রহন করেন।

বেইন প্রস্তুতি করণের সময়।

সকল জীবের হিতসুখ ও মঙ্গল কামনা করে জ্ঞান বংশ স্থবির ও ধর্মপাল স্থবির ভান্তে স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির ভান্তে।

বিকেলবেলার অনুষ্ঠানে কঠিন চীবরদান, কল্পতরুদান, হাজারবাতিদান, আকাশ প্রদীপদান/ফানুশবাতিদানসহ নানাবিধ উপকরণাদি দান করা হয়।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্তিক চাকমা (নান্টু), প্রাক্তন মেম্বার ও সহকারী শিক্ষক। আরো বক্তব্য রাখেন বিজয় কুমার চাকমা, হেডম্যান বাকছড়ি মৌজা; রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দীন আহমেদ ও উপাধ্যক্ষ।

বেইন বুনন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বশান্তির জন্য বুদ্ধের অমৃতময় বাণী স্বধর্মদেশনা প্রদান করেন- শীলপাল স্থবির,বিহার অধ্যক্ষ রাজবিহার; জ্ঞানবংশ মহাস্থবির, বিহার অধ্যক্ষ কাউখালী শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহার; শুভদর্শী মহাস্থবির, বিহার অধ্যক্ষ উলুছড়ি ছাবা বৌদ্ধ বিহার ও সম্পাদক পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ পরিষদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির ভান্তে, বিহার অধ্যক্ষ ভেদভেদী সংঘারাম বৌদ্ধ বিহার ও সভাপতি পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ পরিষদ।

নাটক মঞ্চায়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির ভান্তে বলেন, বিশ্বশান্তির জন্য বুদ্ধের বাণী- মৈত্রী, করুণা, মদিতা ও উপেক্ষা প্রদর্শন করতে হবে। যার মধ্যে এসব গুণাবলী বিদ্যমান থাকে তিনি অতিশয় মহৎ। এই মাহাত্যকে পৃথিবীতে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই বিশ্বে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

ফানুশ বাতি উত্তোলন্

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিহার হতে আগত ভিক্ষুসংঘসহ সভাবর্ধন করেন কলাবুনিয়া লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ চন্দ্র বংশ মহাস্থবির ভান্তে। সকাল ও বিকালবেলার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রনি দেওয়ান। আর্শিবাদ প্রার্থনা পাঠ করে শোনায় ছোট্ট শিশু রুপালী চাকমা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে